কলকাতা, ২২ জুলাই (আইএএনএস): তৃণমূল কংগ্রেসের ৪৪০ কোটি টাকা জমা থাকা তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ সংক্রান্ত মামলার তদন্তে দলের কোষাধ্যক্ষ তথা প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ সুভাষীষ চক্রবর্তীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বুধবার তাঁকে নোটিস পাঠিয়ে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই সল্টলেকে ইডির দফতরে হাজির হতে বলা হয়েছে।
বর্তমানে সুভাষীষ চক্রবর্তী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের কোষাধ্যক্ষের দায়িত্বে রয়েছেন। নোটিস পাওয়ার পর তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করতে চান। সেই কারণে ইডির কাছে হাজিরার জন্য কিছুটা সময় চেয়েছেন।
এর আগে একই মামলায় বেসরকারি বিমান সংস্থা কেয়ারওয়েলের দুই কর্তা পবন জাজু ও রমেশ জাজুকেও তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল ইডি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস ওই সংস্থা থেকে বিমান ও হেলিকপ্টার ভাড়া নিয়েছিল এবং দলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের একটি থেকে সংস্থাটিকে ১৬০ কোটিরও বেশি টাকা দেওয়া হয়েছিল। সেই আর্থিক লেনদেনের বৈধতা ও প্রকৃতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত ২০ জুলাই কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের একক বেঞ্চ তৃণমূল কংগ্রেসের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ইডির জারি করা ফ্রিজ নির্দেশে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিতে অস্বীকার করে। ফলে ওই তিনটি অ্যাকাউন্টে ‘ডেবিট রেস্ট্রিকশন’ বা অর্থ উত্তোলনের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।
প্রথমে রাজ্য পুলিশের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কগুলি এই অ্যাকাউন্টগুলিতে অর্থ উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। পরে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ সাময়িক ও আংশিকভাবে সেই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার নির্দেশ দেয়। কিন্তু এরই মধ্যে প্রায় ১৬৪ কোটি টাকার সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে ইডিও ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে পৃথকভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
এরপর ইডির নির্দেশের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেস ফের হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেও বিচারপতি কৃষ্ণ রাও অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিতে অস্বীকার করেন। আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, এই পর্যায়ে ইডির সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করার কোনও কারণ দেখছে না আদালত।



















