আগরতলা, ২২ জুলাই: দীর্ঘদিন ধরে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে শিশুদের অক্ষরজ্ঞান না দেওয়া, নিয়মিত পাঠদানের পরিবেশের অভাব, শিশু ও গর্ভবতী মহিলাদের জন্য নির্ধারিত পুষ্টিকর খাদ্য বিতরণে অনিয়ম-সহ একাধিক অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল কৈলাসহরের গৌরনগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। বুধবার সকালে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা গোপালনগর গ্রামের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র তালাবন্ধ করে বিক্ষোভে সামিল হন।
অভিযোগ, গৌরনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গোপালনগর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরেই শিশুদের নিয়মিত পড়াশোনা করানো হয় না। কেন্দ্রে উপযুক্ত শিক্ষার পরিবেশও নেই। স্থানীয়দের দাবি, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী শুক্লা দে ও সহায়িকা সুমিতা দাস অধিকাংশ দিনই কেন্দ্রে উপস্থিত থাকেন না। অথচ গ্রামের অভিভাবকেরা নিজেদের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে সন্তানদের অক্ষরজ্ঞান লাভের আশায় এই কেন্দ্রেই পাঠান।
বুধবার সকালে প্রায় ছয় মাস পর অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী কেন্দ্রে এসেছেন বলে খবর পেয়ে বহু গ্রামবাসী সেখানে উপস্থিত হন। অভিযোগ, গ্রামবাসীদের ভিড় দেখে কর্মী শুক্লা দে এবং সহায়িকা সুমিতা দাস কেন্দ্র ছেড়ে চলে যান। এরপরই ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা কেন্দ্রে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
স্থানীয় মহিলাদের অভিযোগ, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে শিশুদের নিয়মিত খিচুড়িও দেওয়া হয় না। ডিম, বিস্কুট, কলা-সহ অন্যান্য পুষ্টিকর খাদ্যসামগ্রীও বিতরণ করা হয় না। দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী গর্ভবতী মহিলাদের ডিম, দুধ ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাদ্য দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তারা কিছুই পান না বলে অভিযোগ।
এছাড়াও কেন্দ্রের পরিকাঠামো নিয়েও একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গ্রামবাসীদের দাবি, কেন্দ্রের ভেতর নোংরা-আবর্জনায় ভরা, শৌচাগার নেই, বিশুদ্ধ পানীয় জলের জন্য কোনো ফিল্টার নেই। শিশুদের খাবারের চাল-ডাল রান্নাঘরের মেঝেতে ফেলে রাখা হয় এবং সেই খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে পোকামাকড়ও দেখা যায়। অভিযোগ, যেদিন কর্মী কেন্দ্রে আসেন, সেদিন ওই চাল-ডাল দিয়েই খিচুড়ি রান্না করে শিশুদের খাওয়ানো হয়।
গ্রামবাসীদের আরও অভিযোগ, সরকারি বরাদ্দে আসা চাল-ডাল ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী কেন্দ্রে ব্যবহার না করে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। কয়েক মাস আগে দিনের বেলায় চালের বস্তা নিয়ে যাওয়ার সময় গ্রামবাসীরা তা দেখতে পেয়ে চাল উদ্ধার করেছিলেন বলেও দাবি করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরে আনা হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি দপ্তরের আধিকারিকরাও নিয়মিত কেন্দ্র পরিদর্শনে আসেন না। ফলে দিনের পর দিন অনিয়ম চললেও তার কোনো প্রতিকার হচ্ছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন গ্রামবাসীরা।
এদিকে, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের এমন বেহাল চিত্র সামনে আসার পর সংশ্লিষ্ট দপ্তর কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা।
























