আগরতলা, ২১ জুলাই: ত্রিপুরার পুলিশ মহাপরিচালক (ডিজিপি) অনুরাগ ধনখড়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় মঙ্গলবার মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহা। তিনি জানান, প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ঝুলন্ত অবস্থায় মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে আরও ফরেনসিক রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আইন অনুযায়ী যা যা করণীয়, সবই করা হবে।”
মঙ্গলবার রাজ্য সচিবালয়ে রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু, মন্ত্রিসভার সদস্য, ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক আধিকারিক ও পুলিশের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে ডিজিপিকে শেষ শ্রদ্ধা জানান মুখ্যমন্ত্রী। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি গভীর শোক প্রকাশ করেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অনুরাগ ধ্যানকর একজন অত্যন্ত সৎ, নিষ্ঠাবান এবং দক্ষ পুলিশ আধিকারিক ছিলেন। তিনি ডিজিপি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আমি নিশ্চিত ছিলাম যে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে কোনও উদ্বেগ থাকবে না। তাঁর উপর আমার সম্পূর্ণ আস্থা ছিল।”
তিনি জানান, গত ১৮ জুলাই ত্রিপুরা পুলিশের পাসিং-আউট প্যারেডে ধ্যানকরের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘক্ষণ কথা হয়েছিল। সেই সময় ধ্যানকরের স্ত্রীসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন। “তখন কল্পনাও করতে পারিনি, এভাবে আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন”।
ঘটনার দিনের বিবরণ দিয়ে তিনি জানান, সোমবার একটি বৈঠকে থাকাকালীন এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিক তাঁকে বিষয়টি জানান। এরপর তিনি মুখ্যসচিবসহ অন্যান্য আধিকারিকদের নিয়ে দ্রুত পুলিশ সদর দফতরে পৌঁছান। সেখানে দেখা যায়, নিজের দপ্তরের সংলগ্ন ওয়াশরুমে ডিজিপিকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। ফরেনসিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দেহ উদ্ধার করা হয়।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রাথমিক ময়নাতদন্তে ঝুলন্ত অবস্থায় মৃত্যুর বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে বিস্তারিত রিপোর্ট এখনও আসেনি। তদন্ত আইন মেনেই এগোবে।” রাজ্য পুলিশের সর্বোচ্চ পদে থেকে অনুরাগ ধ্যানকরের আকস্মিক মৃত্যু ত্রিপুরা জুড়ে শোকের ছায়া ফেলেছে।
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ শ্রদ্ধা জানানোর পর মঙ্গলবার তাঁর মরদেহ বিশেষ বিমানে নয়াদিল্লিতে পাঠানো হয়। আগরতলায় তাঁর বড় ভাই বিবেক ধনখড় মরদেহ গ্রহণ করেন। কানাডায় থাকা তাঁর ছেলে মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে দিল্লিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। পরে উত্তরপ্রদেশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
























