News Flash

  • Home
  • মুখ্য খবর
  • অবসরপ্রাপ্ত আমলাদের পুনর্নিয়োগ বিতর্কে বিরোধীদের পাল্টা জবাব বিজেপির, অতীতের নজির তুলে ধরলেন নব্যেন্দু ভট্টাচার্য
Image

অবসরপ্রাপ্ত আমলাদের পুনর্নিয়োগ বিতর্কে বিরোধীদের পাল্টা জবাব বিজেপির, অতীতের নজির তুলে ধরলেন নব্যেন্দু ভট্টাচার্য

আগরতলা, ১০ জুলাই: রাজ্যে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি আধিকারিকদের চুক্তিভিত্তিক পুনর্নিয়োগ নিয়ে বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরীর অভিযোগের পাল্টা জবাব দিল রাজ্য বিজেপি। শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রদেশ বিজেপির মুখপাত্র নব্যেন্দু ভট্টাচার্য দাবি করেন, অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিকদের পুনর্নিয়োগ কোনও নতুন বিষয় নয়। বামফ্রন্ট সরকারের আমলেও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর, কমিশন, কর্পোরেশন ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিকদের পুনর্নিয়োগ বা চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছিল।

নব্যেন্দু ভট্টাচার্য বলেন, প্রশাসনিক নথি অনুযায়ী বাম আমলে একাধিক অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক অবসরের পরও দীর্ঘ সময় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের মধ্যে বনমালী সিনহা, নেপাল চন্দ্র সিনহা, দেবতোষ দত্ত, আর. কে. দে চৌধুরী এবং সুবিনয় চৌধুরীর নাম উল্লেখযোগ্য। তিনি দাবি করেন, বনমালী সিনহা ত্রিপুরা মেডিক্যাল কলেজের চেয়ারম্যান, দেবতোষ দত্ত ত্রিপুরা জুট মিলস লিমিটেড এবং সুবিনয় চৌধুরী পুলিশ অ্যাকাউন্টেবিলিটি কাউন্সিলে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। অনেক ক্ষেত্রেই তাঁদের মেয়াদ পাঁচ বছরেরও বেশি ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক সুদীপ কুমার রায়, শান্তনু দাস, দিলীপ আচার্য, স্বপন সাহা এবং কিশোর আম্বুলিকেও তিন বছরের বেশি সময় বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে রাখা হয়েছিল। এছাড়া অবসরপ্রাপ্ত টিসিএস আধিকারিক এ. কে. পোদ্দার ত্রিপুরা পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সচিব হিসেবে দুই বছরেরও বেশি সময় পুনর্নিয়োগের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করেন বলেও তিনি দাবি করেন।

বন ও পরিবেশ দপ্তরের উদাহরণ তুলে ধরে বিজেপির মুখপাত্র বলেন, ত্রিপুরা ফরেস্ট ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড প্ল্যান্টেশন কর্পোরেশন লিমিটেডে অবসরপ্রাপ্ত আইএফএস আধিকারিক ড. ভি. কে. বহুগুণা এবং জগদীশ সিং দীর্ঘ সময় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। পাশাপাশি কৃষি ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন দপ্তরেও ড. শিব নারায়ণ সেন এবং ড. এ. রায় বর্মনের মতো অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিকদের পুনর্নিয়োগ করা হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও অবসরের পর ডা. জীবন নাগকে ত্রিপুরা মেডিক্যাল কলেজের মেডিক্যাল সুপারিন্টেনডেন্ট পদে নিয়োগ দেওয়ার উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি।

নব্যেন্দু ভট্টাচার্য বলেন, চুক্তিভিত্তিক পুনর্নিয়োগের পেছনে অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক দক্ষতার পাশাপাশি আর্থিক দিকও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিকদের নির্দিষ্ট সম্মানীর ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হলে রাজ্যের রাজকোষের ওপর তুলনামূলকভাবে কম আর্থিক চাপ পড়ে। একইসঙ্গে কোনও আধিকারিক অবসর নিলে তাঁর নিয়মিত পদ শূন্য হিসেবে গণ্য হয় এবং সেই পদে নতুন নিয়োগের সুযোগও বজায় থাকে।

তিনি আরও দাবি করেন, প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী নৃপেন চক্রবর্তীর নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট সরকারের সময়েও তৎকালীন পরিকল্পনা অধিকর্তা পার্থ গুপ্ত অবসরের পর প্রায় আট বছর পুনর্নিয়োগের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

বিজেপির প্রধান মুখপাত্রের বক্তব্য, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি আধিকারিকদের চুক্তিভিত্তিক পুনর্নিয়োগ শুধুমাত্র ত্রিপুরায় নয়, কেন্দ্র সরকার, বিভিন্ন রাজ্য সরকার, কমিশন, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি কর্পোরেশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানেও দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা। বিশেষজ্ঞ জ্ঞান, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, চলমান প্রকল্পের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ শূন্যপদ সাময়িকভাবে পূরণের স্বার্থেই এই ধরনের পুনর্নিয়োগ করা হয়ে থাকে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রশাসনিক মহলের মতে, এই ধরনের পুনর্নিয়োগের পেছনে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার পাশাপাশি আর্থিক যুক্তিও গুরুত্বপূর্ণ। পূর্ণকালীন কর্মরত কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে সরকারকে মূল বেতন, মহার্ঘ ভাতা (ডিএ), বাড়িভাড়া ভাতা, চিকিৎসা সুবিধাসহ বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা দিতে হয়। অন্যদিকে, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণত নির্দিষ্ট সম্মানী বা ফিক্সড পে প্রদান করেই তাঁদের দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো সম্ভব হয়। ফলে রাজ্যের রাজকোষের ওপর তুলনামূলকভাবে কম আর্থিক চাপ পড়ে।

চুক্তিভিত্তিক পুনর্নিয়োগের ফলে সরকারের অনুমোদিত শূন্যপদের সংখ্যাও কমে না। কোনো কর্মকর্তা অবসর গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর নিয়মিত পদটি শূন্য হিসেবে গণ্য হয় এবং প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সেই পদে নতুন নিয়োগের সুযোগ বজায় থাকে। ফলে একদিকে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সেবা গ্রহণ করা সম্ভব হয়, অন্যদিকে নিয়মিত নিয়োগ প্রক্রিয়াও অব্যাহত রাখা যায়।

এরও আগে প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী নৃপেন চক্রবর্তীর নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট সরকারের সময়েও পুনর্নিয়োগের নজির ছিল। তৎকালীন পরিকল্পনা অধিকর্তা পার্থ গুপ্ত অবসরের পর প্রায় আট বছর পুনর্নিয়োগের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়।

প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি আধিকারিকদের চুক্তিভিত্তিক পুনর্নিয়োগ শুধুমাত্র ত্রিপুরার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্র সরকার, বিভিন্ন রাজ্য সরকার, কমিশন, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি কর্পোরেশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরেই এই ধরনের ব্যবস্থা অনুসৃত হয়ে আসছে। বিশেষজ্ঞ জ্ঞান, প্রাতিষ্ঠানিক স্মৃতি, চলমান প্রকল্পের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক শূন্যতা পূরণের স্বার্থেই এই ধরনের নিয়োগ করা হয়।

তবে এই ব্যবস্থা নিয়ে মতভেদও রয়েছে। একাংশের মতে, অভিজ্ঞ আধিকারিকদের প্রশাসনে ধরে রাখা জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় এবং এতে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজে ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। অন্যদিকে সমালোচকদের দাবি, দীর্ঘদিন একই কর্মকর্তাদের পুনর্নিয়োগ বা মেয়াদ বৃদ্ধি করলে নবীন কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও দায়িত্ব গ্রহণের সুযোগ সীমিত হতে পারে। প্রশাসনিক মহলের মতে, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিক পুনর্নিয়োগের ফলে পদোন্নতি বা নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয় না। কারণ, এই ধরনের পুনর্নিয়োগ নিয়মিত অনুমোদিত পদের বাইরে চুক্তিভিত্তিকভাবে করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অবসর গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর নিয়মিত পদটি শূন্য হিসেবে গণ্য হয় এবং প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সেই শূন্য পদে পদোন্নতি বা নতুন নিয়োগের প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে। ফলে অভিজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তার প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর পাশাপাশি নিয়মিত পদোন্নতি ও নতুন নিয়োগ-উভয় প্রক্রিয়াই সমান্তরালভাবে চলতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি।

এদিকে, প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, রাজ্যে অভিজ্ঞ সিনিয়র আইএএস ও বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তার ঘাটতি থাকায় অনেক সময় প্রশাসনিক প্রয়োজনেই এই ধরনের পুনর্নিয়োগ করা হয়। বিশেষ করে বন, কৃষি, চিকিৎসা ও অন্যান্য কারিগরি খাতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মকর্তাদের জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে তুলনামূলক কম ব্যয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হয়।

ভারত সরকারের কর্মী ও প্রশিক্ষণ দপ্তর-এর প্রচলিত নির্দেশিকাতেও জনস্বার্থে এবং দাপ্তরিক জরুরি প্রয়োজনে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জটিল প্রকল্প বাস্তবায়ন, নীতিনির্ধারণে সহায়তা এবং বিশেষায়িত পরামর্শ প্রদানের ক্ষেত্রে এই ধরনের নিয়োগ প্রশাসনিকভাবে গ্রহণযোগ্য ও বহুল প্রচলিত। সব মিলিয়ে প্রশাসনিক মহলের অভিমত, ত্রিপুরায় অবসরোত্তর পুনর্নিয়োগ কোনো নতুন ব্যবস্থা নয়; বরং বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সরকারের আমলে অনুসৃত একটি দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক প্রথা।

Releated Posts

এখন পর্যন্ত ২ লক্ষ ৬১ হাজার ২৬৯ মেট্রিক টন ধান কৃষকদের কাছ থেকে কেনা হয়েছে: মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ১০ জুলাই: রাজ্যের কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে কাজ করছে বর্তমান রাজ্য সরকার। এজন্য ধারাবাহিকভাবে পরিকল্পনা গ্রহণ…

ByByReshmi Debnath Jul 11, 2026

দুবাইয়ের লুলু রিটেলের সঙ্গে অংশীদারিত্ব রাজ্যের কৃষকদের জন্য নতুন বাজারের সুযোগ তৈরি করেছে: কৃষিমন্ত্রী

আগরতলা: দুবাইয়ের লুলু রিটেলের মাধ্যমে গল্ফ দেশগুলিতে রপ্তানির উদ্দেশ্যে অর্গানিক কৃষিপণ্যের প্রথম চালান আনুষ্ঠানিকভাবে রওনা করলেন।লুলু রিটেল হল…

ByByReshmi Debnath Jul 10, 2026

অবসরপ্রাপ্ত আমলাদের বারবার পুনর্নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন বিরোধী দলনেতার, তদন্তের দাবি

আগরতলা, ১০ জুলাই: রাজ্য সরকারের একাধিক অবসরপ্রাপ্ত আমলাকে বারবার পুনর্নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে এর স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন…

ByByReshmi Debnath Jul 10, 2026

সাংসদ উন্নয়ন তহবিল ব্যয়ে নজির গড়লেন বিপ্লব কুমার দেব, লোকসভায় ৯৩ শতাংশের বেশি ও রাজ্যসভায় ১০০ শতাংশ ব্যয়ের দাবি

আগরতলা, ১০ জুলাই: পশ্চিম ত্রিপুরা লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব সাংসদ স্থানীয় এলাকা উন্নয়ন তহবিল ব্যয়ের ক্ষেত্রে…

ByByReshmi Debnath Jul 10, 2026

Leave a Reply

Scroll to Top