কৈলাশহর, ৯ জুলাই: টানা ভারী বর্ষণের জেরে ঊনকোটি জেলার বন্যা পরিস্থিতির ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। কৈলাশহরে মনু নদীর জল বিপদসীমা অতিক্রম করে প্রবাহিত হওয়ায় জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় ১১টা নাগাদ মনু নদীর জলস্তর রেকর্ড করা হয় ২৪.৫২ মিটার, যেখানে নদীর চূড়ান্ত বিপদসীমা ২৪.৫০ মিটার। ফলে নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে জল ঢুকে পড়ায় বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে কৈলাশহর মহকুমার গৌরনগর ব্লকের ইরানি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে। লাগাতার বৃষ্টির ফলে ইরানি ও পূর্ব ইয়াজপুরের মধ্যবর্তী সোনাছড়ি ছড়ার জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে প্রবল স্রোতের সৃষ্টি হয়েছে। সেই স্রোতে স্থানীয় বাসিন্দা মুক্তার আলীর দ্বিতল পাকা বাড়ির পিছনের অংশের মাটি ধুয়ে যায়। পরিবারের দাবি, গভীর রাতে ছড়ার তীব্র স্রোতে বাড়ির ভিত – এর নিচের মাটি ক্ষয় হতে শুরু করে। বর্তমানে বাড়িটি যে কোনও মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবারের সদস্যরা। বাড়িটিতে বসবাসকারী চারটি পরিবার চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে মনু নদীর জল কৈলাশহরের ফরেস্ট অফিস রোড এলাকায় প্রবেশ করতে শুরু করেছে। নদীর জল ক্রমশ বাড়তে থাকায় প্লাবনের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
চণ্ডীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের হালাইরপাড় এলাকাতেও বেশ কয়েকটি বাড়িতে বন্যার জল ঢুকে পড়েছে। পাশাপাশি গোবিন্দপুর বাঁধ সংলগ্ন এলাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। কোমরসমান জল জমে বহু বাড়িঘর জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। টানা দুদিনের ভারী বর্ষণে কৈলাশহরের কালিপুর এলাকাতেও বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে।
এদিকে বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, অতীতে নির্মিত বাঁধগুলির নির্মাণকাজ সঠিকভাবে না হওয়ায় সামান্য জলচাপেই বাঁধের বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দিচ্ছে। তাঁদের আশঙ্কা, আগামী কয়েকদিন ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বাঁধ ভেঙে আরও বড় ধরনের প্লাবনের সৃষ্টি হতে পারে।
বন্যা পরিস্থিতির কারণে জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির ওপর নজরদারি চালানো হলেও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত ত্রাণ, নিরাপদ আশ্রয় এবং বাঁধ মেরামতের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি বন্যা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।



















