নিজস্ব প্রতিনিধি, বিলোনিয়া,৬ ই জুলাই: দক্ষিণ ত্রিপুরার বিলোনিয়া মহকুমাধীন পূর্ব কলাবাড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের মাইছড়া এলাকায় রাস্তার নির্মাণকাজে চরম অনিয়ম ও দীর্ঘসূত্রিতার অভিযোগে জনরোষের মুখে পড়ল একটি ঠিকাদারি সংস্থা। সোমবার স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তার কাজ দ্রুত সম্পন্নের দাবিতে বিক্ষোভে সামিল হন।
জানা যায়, মাই ইঞ্জিনিয়ারিং নামে একটি ঠিকাদারি সংস্থা মাইছড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে গাছবাড়িয়া হয়ে উত্তর কলাবাড়িয়া পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ গ্রামীণ রাস্তা নির্মাণের প্রায় ৮ কোটি টাকার কাজের বরাত পায়। রাস্তার কাজ শুরু হওয়ার প্রায় এক বছর অতিক্রম হতে চললেও এখনও পর্যন্ত ১০ শতাংশ কাজও সম্পন্ন হয়নি বলে অভিযোগ।অভিযোগ, রাস্তার পুরনো ইটের সোলিং তুলে ফেলার পর অবৈজ্ঞানিক ও ধীরগতিতে নির্মাণকাজ চলায় এলাকাবাসীর দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
বর্ষার মৌসুমে কাঁচা রাস্তা কাদাময় হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতে মারাত্মক সমস্যা দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাস্তা নির্মাণ করতে গিয়ে পানীয় জলের পাইপ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে বহু পরিবার বিশুদ্ধ পানীয় জল থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। এই সমস্যার সমাধানের দাবিও সোমবারের বিক্ষোভে জোরালোভাবে তোলা হয়। স্থানীয়দের আন্দোলনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন বিলোনিয়া মহকুমা শাসক। তিনি এলাকাবাসীর অভিযোগ শোনার পাশাপাশি পূর্ব কলাবাড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান এবং অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্যও শোনেন। তবে মহকুমা শাসক ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও পূর্ত দপ্তরের কোনও পদস্থ আধিকারিকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন গ্রামবাসী ও পঞ্চায়েত প্রতিনিধিরা।
পরে পূর্ত দপ্তরের একজন জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়ায় প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে তেমন কোনও তথ্য দিতে পারেননি।এরপর ঠিকাদারি সংস্থার উপস্থিত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধিদের কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে মহকুমা শাসক জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যদি সঠিকভাবে নির্মাণকাজ শুরু না হয় এবং দ্রুত কাজ সম্পন্নের উদ্যোগ না নেওয়া হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি তিনি এলাকাবাসী, জনপ্রতিনিধি ও পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষকে আশ্বস্ত করেন যে প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করছে। এই বিষয়ে আশ্বাস দেন বিলোনিয়া মহকুমা শাসক দেবজ্যোতি রায়।























