কৈলাসহর, ২ জুলাই: আগরতলা সরকারি মেডিক্যাল কলেজ (এজিএমসি) এবং জিবি হাসপাতালের চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানালেন কংগ্রেস পরিষদীয় দলের নেতা তথা অল ইন্ডিয়া পঞ্চায়েত পরিষদের ত্রিপুরা রাজ্য কমিটির সভাপতি ও বিধায়ক বিরজিত সিনহা। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আগামী ৫ জুলাই সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত আগরতলার সার্কিট হাউস সংলগ্ন গান্ধী মূর্তির পাদদেশে ছয় ঘণ্টার শান্তিপূর্ণ ধর্না ও বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেন তিনি।
বৃহস্পতিবার কৈলাসহরের জেলা কংগ্রেস ভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিরজিত সিনহা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অবাস্তব। সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপের ফলে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের পূর্ণ সময় নিশ্চিত হবে এবং চিকিৎসা পরিষেবার মান বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি তার সম্পূর্ণ বিপরীত বলে দাবি করেন তিনি।
বিরজিত সিনহার অভিযোগ, অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এইমস)-এর আদলে চিকিৎসা পরিষেবা গড়ে তোলার কথা বলা হলেও ত্রিপুরার সরকারি হাসপাতালগুলিতে সেই মানের পরিকাঠামো, জনবল কিংবা পরিষেবা ব্যবস্থা এখনও গড়ে ওঠেনি। ফলে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায় সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি সমস্যার মুখে পড়ছেন।
তিনি বলেন, আগরতলা শহরের বিভিন্ন নার্সিংহোমে প্রতিদিন বহু অস্ত্রোপচার, বিশেষ করে সিজারিয়ান ডেলিভারি হয়ে থাকে। চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ হওয়ায় সেই পরিষেবা কার্যত ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে জিবি হাসপাতালে একসঙ্গে এত সংখ্যক রোগীর চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচারের মতো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। ফলে গর্ভবতী মহিলা-সহ বহু রোগীকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে বিরোধী দলনেতা বলেন, একটি আউটডোর টিকিট সংগ্রহ করতেই রোগীদের প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লাগছে। এরপর চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করতেও আরও দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে। জনবল সংকট, পরিকাঠামোর ঘাটতি, আইসিইউ ও অপারেশন থিয়েটারের সীমাবদ্ধতা দূর না করে শুধুমাত্র প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ করলে স্বাস্থ্য পরিষেবায় আরও জটিলতা তৈরি হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
বিরজিত সিনহা জানান, সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলনের অংশ হিসেবে ৫ জুলাইয়ের ধর্না কর্মসূচির জন্য প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া হয়েছে। তিনি রাজ্যের সর্বস্তরের মানুষ এবং বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিদের ওই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, স্বাস্থ্য সচিবের সঙ্গে চিকিৎসক সংগঠনগুলির চলমান আলোচনায় যদি ইতিবাচক সমাধান বেরিয়ে আসে, তাহলে তা সকলের জন্যই মঙ্গলজনক হবে। অন্যথায় আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।
সাংবাদিক সম্মেলনে অল ইন্ডিয়া পঞ্চায়েত পরিষদের রাজ্য কমিটির সাধারণ সম্পাদক রুনু মিঞা এবং জেলা কংগ্রেস সভাপতি মহম্মদ বদরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
























