নয়াদিল্লি, ২ জুলাই (আইএএনএস): এই মুহূর্তে পেট্রল ও ডিজেলের খুচরো দাম কমানোর কোনও যৌক্তিকতা নেই বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী।
বৃহস্পতিবার জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে বড় ওঠানামা হলেও ভারতে পেট্রল ও ডিজেলের দাম মোটের উপর স্থিতিশীল রাখা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, গত চার বছরে পেট্রলের দাম বেড়েছে মাত্র ৫.৫৮ শতাংশ এবং ডিজেলের দাম বেড়েছে ৬.২৩ শতাংশ।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলি (ওএমসি) এখনও প্রায় ২.১৮ লক্ষ কোটি টাকার সম্মিলিত লোকসান (আন্ডার-রিকভারি) কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম অনেক বেশি থাকার সময় কেনা জ্বালানির মজুত এখনও তাদের কাছে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এখনই খুচরো জ্বালানির দাম কমানো বাস্তবসম্মত নয়।
পুরীর কথায়, “এই মুহূর্তে জ্বালানির দাম কমানোর প্রশ্নটি যৌক্তিক নয়।”
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামার প্রভাব থেকে ভারত সরকার সাধারণ মানুষকে অনেকটাই সুরক্ষা দিতে পেরেছে।
সম্প্রতি হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সেই সময়ও দেশে জ্বালানি সরবরাহে কোনও ব্যাঘাত ঘটেনি।
মন্ত্রী জানান, “দেশের একটি পেট্রল পাম্পেও জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেনি।” তাঁর দাবি, দেশের প্রায় ১.০৭ লক্ষ জ্বালানি বিক্রয়কেন্দ্র স্বাভাবিকভাবেই পরিষেবা চালিয়ে গিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারের ধাক্কার বড় অংশ সরকারই সামলেছে।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে পুরী জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের তেল পরিশোধন ক্ষমতা বছরে ৩০৯.৫ মিলিয়ন মেট্রিক টনে (এমএমটিপিএ) উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে একাধিক রিফাইনারি সম্প্রসারণ ও নতুন প্রকল্পের কাজ চলছে, যার কয়েকটি আগামী দু’বছরের মধ্যেই সম্পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি জানান।



















