লখনউ, ১ জুলাই (আইএএনএস): উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বুধবার সাহারানপুর থেকে রাজ্যব্যাপী ‘স্কুল চলো অভিযান-২০২৬’-এর দ্বিতীয় পর্যায়ের সূচনা করেন। এ সময় তিনি বলেন, জাতি গঠনের সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি হল শিক্ষা এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিটি শিশুর স্কুলে ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে।
জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মানসম্মত শিক্ষা শুধু ভালো নাগরিকই নয়, দক্ষ শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রশাসনিক আধিকারিক এবং জনপ্রতিনিধি গড়ে তোলে। তিনি শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ এবং প্রশাসনকে এই কর্মসূচিকে গণআন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানান।
যোগী আদিত্যনাথ বলেন, “গুণগত শিক্ষা শিশুদের মধ্যে সুশিক্ষা ও মূল্যবোধ গড়ে তোলে, তাদের আত্মনির্ভর করে এবং সমাজ ও দেশের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য প্রস্তুত করে।”
তিনি দাবি করেন, উত্তরপ্রদেশে স্কুলছুটের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তাঁর কথায়, “আগের সরকারগুলির আমলে যেখানে স্কুলছুটের হার ছিল ১৯ থেকে ২০ শতাংশ, সেখানে বর্তমানে উন্নত পরিকাঠামো ও পরিষেবার কারণে তা কমে ৩ থেকে ৪ শতাংশে নেমে এসেছে।”
২০১৭ সালে শুরু হওয়া ‘স্কুল চলো অভিযান’-এর লক্ষ্য প্রতিটি শিশুকে শিক্ষার মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, সরকারের সুস্পষ্ট নীতি ও শিক্ষাক্ষেত্রে সংস্কারের অঙ্গীকারের ফলেই এই সাফল্য এসেছে।
তিনি জানান, ২০১৭ সালে বেসিক এডুকেশন কাউন্সিলের অধীন মাত্র ৩৬ শতাংশ স্কুলে ন্যূনতম পরিকাঠামো ছিল। অধিকাংশ স্কুলেই শৌচাগার, বিশুদ্ধ পানীয় জল, আসবাব, গ্রন্থাগার, রান্নাঘর এবং সীমানা প্রাচীরের মতো মৌলিক সুবিধার অভাব ছিল।
এই পরিস্থিতির পরিবর্তনে রাজ্য সরকার ‘অপারেশন কায়াকল্প’ প্রকল্প চালু করে। জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় সরকারি স্কুলগুলির ব্যাপক উন্নয়ন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বর্তমানে স্কুলগুলিতে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য পৃথক শৌচাগার, বিশুদ্ধ পানীয় জল, আসবাব, গ্রন্থাগার এবং মধ্যাহ্নভোজনের উপযুক্ত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। প্রতিটি শিশুর জন্য উন্নত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, কোনও শিশু শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলে তা শুধু তার পরিবারের নয়, সমাজ ও দেশেরও ক্ষতি। তাই প্রতিটি শিশুর বিদ্যালয়ে যাওয়া নিশ্চিত করা সকলের যৌথ দায়িত্ব।
যোগী আদিত্যনাথ জানান, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রায় ২৩ হাজার বিশেষভাবে সক্ষম ছাত্রীকে বৃত্তি দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া শিক্ষা মিত্রদের মাসিক ভাতা ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৮ হাজার টাকা এবং প্রশিক্ষকদের ভাতা ৯ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৭ হাজার টাকা করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও ঘোষণা করেন, শিক্ষা মিত্র, প্রশিক্ষক, রাঁধুনি এবং ‘স্কুল চলো অভিযান’-এর সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের জন্য ৫ লক্ষ টাকার বিমা সুরক্ষা দেওয়া হবে।



















