জয়পুর, ১ জুলাই (আইএএনএস): আজমের হাই-সিকিউরিটি জেলের ভিতরে খুন হওয়া কুখ্যাত দস্যু জগন গুর্জর-এর শেষকৃত্য বুধবার রাজস্থানের ধোলপুর জেলার ডাং অঞ্চলের ভবূতিপুরা গ্রামে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর ছেলে আসারাম মুখাগ্নি করেন।
শেষকৃত্যে যোগ দেওয়ার জন্য জগনের তিন ভাই— পান সিং, লাল সিং এবং পাপ্পু সিংকে বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)-এর কড়া নিরাপত্তায় জেল থেকে আনা হয়। শেষ শ্রদ্ধা জানানোর পর তাঁদের সঙ্গে সঙ্গেই ফের জেলে নিয়ে যাওয়া হয়। আজমের পুলিশ, ধোলপুর এসটিএফ এবং ধোলপুর পুলিশের পৃথক দল তাঁদের যাতায়াতের দায়িত্বে ছিল।
শেষকৃত্য ঘিরে প্রায় ১০০ জন পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়। সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ জগনের দেহ ভবূতিপুরায় পৌঁছায়। গোটা গ্রাম কার্যত নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়। সোনে কা গুর্জা, বাড়ি সদর, বাড়ি কোতোয়ালি, বাসাই ডাং, কাঞ্চনপুর, নিহালগঞ্জ, ধোলপুর সদর, রাজাখেড়া এবং মানিয়া-সহ মোট নয়টি থানার পুলিশ মোতায়েন ছিল। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শ্রবণ কুমার এবং সার্কেল অফিসার মহেন্দ্র কুমার নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকি করেন।
গত ২৯ জুন আজমের হাই-সিকিউরিটি জেলের ভিতরে জগন গুর্জর খুন হন। পরিবারের অভিযোগ, ভরতপুরের কুলদীপ জাঘিনা হত্যা মামলার অভিযুক্ত বিষ্ণু জেলের একই ব্যারাকে থাকা অবস্থায় একটি তোয়ালে দিয়ে জগনের গলা টিপে হত্যা করে।
ঘটনার পর জেল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখায় জগনের পরিবার। পরে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর তারা ময়নাতদন্তে সম্মতি দেয়। আজমেরে ময়নাতদন্তের পর দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এই ঘটনায় বাড়ির প্রাক্তন প্রধান পুরণ সিং জেল প্রশাসনের চরম ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, জগনের ছেলে আসারাম বাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ তুলেছেন।
এই হত্যাকাণ্ডের পর আজমের হাই-সিকিউরিটি জেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। জেল সুপার পরশ জাঙ্গিড জানিয়েছেন, ব্যারাকের বাইরের সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনার আগে জগন ও বিষ্ণুকে স্বাভাবিকভাবে কথাবার্তা বলতে দেখা যায়।
তদন্তে আরও জানা গেছে, একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় টুথপেস্ট মাখিয়ে নজরদারি ব্যাহত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এছাড়া একটি গামছা সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়, যা দেখে প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে দেখানোর চেষ্টা হয়েছে বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ।
ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং জেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।



















