আগরতলা, ১ জুলাই: শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং উদ্যোক্তা মনোভাব গড়ে তোলার লক্ষ্যে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হল ‘ডিজাইন থিংকিং অ্যান্ড ইনোভেশন’ বিষয়ক এক বিশেষ কর্মশালা। ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্লেসমেন্ট সেলের উদ্যোগে এবং ফাউন্ডেশন ফর ইনোভেশন অ্যান্ড টেকনোলজি ট্রান্সফার, আইআইটি দিল্লি-র সহযোগিতায় ‘স্যামসাং সলভ ফর টুমরো’ কর্মসূচির আওতায় এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় আইডিয়া তৈরি, উদ্ভাবনী চিন্তাধারা, সমস্যা সমাধানের আধুনিক পদ্ধতি এবং বাস্তব জীবনের বিভিন্ন কেস স্টাডির মাধ্যমে হাতে-কলমে শিক্ষাদানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে স্যামসাং সলভ ফর টুমরো কর্মসূচির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক বাদল কুমার দত্ত, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক সমীর কুমার শীল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারিক ড. কাম্পেশ্বর মিশ্র। বক্তারা উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ গঠনে উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং স্টার্টআপ সংস্কৃতির গুরুত্ব তুলে ধরেন।
ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনকিউবেশন সেন্টারের কার্যক্রম সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের অবহিত করেন অধ্যাপক সালিম সাহ। তিনি জানান, উদ্ভাবনী ধারণাকে সফল ব্যবসায়িক উদ্যোগে রূপান্তর করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা প্রদান করা হয়।
কর্মশালার কারিগরি অধিবেশন পরিচালনা করেন এফআইটিটি, আইআইটি দিল্লি-র বৈভব সিং পরিহার। তিনি অংশগ্রহণকারীদের ডিজাইন থিংকিং পদ্ধতি এবং উদ্ভাবনভিত্তিক সমস্যা সমাধানের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশিক্ষণ দেন। পুরো কর্মশালার সমন্বয় করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্লেসমেন্ট অফিসার ড. ধর্মেন্দ্র কুমার দুবে।
অনুষ্ঠানে আগরতলার সেলিব্রেশন ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ-এর উদ্যোক্তা সন্ত দেবনাথ নিজের স্টার্টআপ গড়ে তোলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনকিউবেশন সেন্টারের সহায়তায় তাঁর ব্যবসায়িক ভাবনাকে সফল উদ্যোগে পরিণত করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া ড. হরজিৎ নাথ স্টার্টআপ, উদ্ভাবনী পরিবেশ এবং ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস-এর গুরুত্ব নিয়ে বক্তব্য রাখেন।
তথ্যপ্রযুক্তি, সংস্কৃত, প্রাণিবিদ্যা, হোটেল ম্যানেজমেন্ট, লিবারেল আর্টস, সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ, ইংরেজি, শিক্ষা, কম্পিউটার বিজ্ঞান, দর্শন, অর্থনীতি এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। আয়োজকদের মতে, এই কর্মশালা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা ও উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং ভবিষ্যতে স্টার্টআপ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাদের অনুপ্রাণিত করবে।






















