অযোধ্যা, ৩০ জুন(আইএএনএস) : কংগ্রেস সাংসদ কিশোরী লাল শর্মা দাবি করেছেন, তাঁকে অযোধ্যার রাম মন্দিরে দর্শনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাঁর অভিযোগ, উত্তর প্রদেশ পুলিশ ও প্রশাসন তাঁকে জোরপূর্বক বিমানবন্দরে নিয়ে যায়।
এই ঘটনাটি এমন সময় সামনে এসেছে, যখন রাম মন্দিরে যাওয়ার প্রস্তাবিত কর্মসূচির আগে উত্তর প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অজয় রায়কে অযোধ্যায় গৃহবন্দি করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
এর আগে কংগ্রেস অভিযোগ করেছিল, অজয় রায় এবং দলের এক প্রতিনিধি দলকে রাম মন্দিরে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কিশোরী লাল শর্মা বলেন, আমাকে দর্শন করতে দেওয়া হয়নি। বরং পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন আমাকে জোর করে বিমানবন্দরে নিয়ে গেছে। কিন্তু তারা আমাকে চিরদিন দর্শন থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না। আজ যদি আটকায়, কাল আসব। কাল আটকালে পরশু আসব।
তিনি আরও বলেন, আর কতদিন আমাকে আটকাবে? আমি তাদের বলেছিলাম, আমার পরিচয়পত্র রেখে দিন, আমাকে সাধারণ ভক্তের মতো শুধু দর্শনের সুযোগ দিন। কিন্তু প্রশাসন তাতেও রাজি হয়নি।
প্রশাসনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এখানে পুরো বিষয়টি নিয়ে নাটক করা হয়েছে।
এদিকে, কংগ্রেস নেতাদের গৃহবন্দি করার ঘটনায় তীব্র সমালোচনা করেছেন দলের উত্তর প্রদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা রাজেন্দ্র পাল গৌতম। তাঁর দাবি, “উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ভীত। তাঁর আত্মবিশ্বাস ভেঙে গেছে এবং তিনি ক্ষমতা হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল যখন এখানে এসেছিলেন, তখন তাঁকে পূর্ণ পুলিশি নিরাপত্তায় রাম মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু কংগ্রেস নেতারা যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতেই তাঁদের গৃহবন্দি করা হয়েছে। এটি বিজেপির ভয়েরই প্রমাণ। আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের কি কোনও মূল্য নেই?
অন্যদিকে, বিজেপি নেতারা অভিযোগ করেছেন, রাম মন্দিরের অনুদান তছরুপের অভিযোগের তদন্ত চলাকালীন কংগ্রেস রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই বিষয়টিকে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।
এদিকে, অযোধ্যার আচার্য নরেন্দ্র দেব কৃষি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে কংগ্রেস কর্মীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
প্রাক্তন অযোধ্যা জেলা কংগ্রেস সভাপতি অখিলেশ যাদব বলেন, আমাদের রাজ্য সভাপতি অজয় রায় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, দলের নেতাদের রাম মন্দিরে পূজার অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত আমরা এখান থেকে সরব না। শান্তিপূর্ণভাবেই আমরা অবস্থান চালিয়ে যাব, যতক্ষণ না তিনি রামলালার দর্শনের সুযোগ পান।
তিনি বিজেপি সরকারকে প্রশ্ন করে বলেন, কংগ্রেস নেতাদের রাম মন্দিরে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে কেন? সরকার কী লুকাতে চাইছে? এটি একটি মন্দির, বিজেপির দলীয় কার্যালয় নয়।


















