কারাকাস, ২৬ জুন (আইএএনএস) : ভেনেজুয়েলায় বুধবার সন্ধ্যায় আঘাত হানা পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ১৫০০ জন। নিখোঁজ ৪৩০০ জন ব্যক্তি। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে দিনরাত এক করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারী দল।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা -এর তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ৪০ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার দুটি অগভীর ভূমিকম্প আঘাত হানে। এই ধরনের পরপর দুটি বড় ভূমিকম্পকে ভূকম্পবিদ্যায় ‘ডাবলেট’ বলা হয়। গত এক শতাব্দীর মধ্যে ভেনেজুয়েলায় এটি অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প।
ভূমিকম্পে দেশের মধ্য উপকূলীয় অঞ্চল এবং রাজধানী কারাকাসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বহু বহুতল ভবন ধসে পড়েছে, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। একের পর এক আফটারশকের কারণে আরও ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দেশটির জাতীয় পরিষদের সভাপতি জর্জ রদ্রিগেজ বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে জানান, এখনও প্রায় ২০০ জন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে রয়েছেন। তিনি বলেন, “যত বেশি সম্ভব মানুষকে জীবিত উদ্ধার করতে আমরা সময়ের সঙ্গে লড়াই করছি।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, দুটি ভূমিকম্পই মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরতায় হওয়ায় কম্পনের শক্তি সরাসরি ভূপৃষ্ঠে আঘাত হানে, যার ফলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে। দুই কম্পনের ব্যবধান ছিল এক মিনিটেরও কম, আর পরবর্তী আফটারশকগুলি উদ্ধারকাজকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র রাজধানী কারাকাসের খুব কাছাকাছি হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের দাবি, গত প্রায় ৫০ বছরে ভেনেজুয়েলায় বড় ধরনের ভূমিকম্প না হওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি সীমিত ছিল। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামো খাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগের অভাবে পুরনো ভবনগুলিও বড় ধরনের কম্পন সহ্য করতে পারেনি।
উদ্ধার ও পুনর্গঠনের জন্য সরকার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বেসরকারি সংস্থাগুলির ধ্বংসাবশেষ অপসারণের যন্ত্রপাতি কাজে লাগানো, ২০ কোটি মার্কিন ডলারের একটি সহায়তা তহবিল গঠন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষ ঋণ সুবিধা চালু করা।
এদিকে, বিদেশমন্ত্রী ইভান গিল জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক সহায়তা সমন্বয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল এবং প্রতিবেশী দেশ-সহ অন্তত এক ডজন দেশ ভেনেজুয়েলার পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী কার্লোস আলভারাদো জানান, দুর্ভাগ্যজনকভাবে ২৩৫ জনকে হাসপাতালে আনার আগেই মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে অথবা হাসপাতালে পৌঁছানোর পর তাঁদের মৃত্যু হয়েছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা-সহ উত্তরাঞ্চলে অতিরিক্ত উদ্ধারকারী দল, সেনাবাহিনী এবং চিকিৎসক মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে, ভারত, চীন, ব্রাজিল-সহ একাধিক দেশ ভেনেজুয়েলাকে মানবিক সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করা এবং ত্রাণ পৌঁছে দিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সমন্বয়ও শুরু হয়েছে।
























