আগরতলা, ২৫ জুন: চাকরির প্রথম দিন থেকেই নিয়মিত বেতন-ভাতা ও অন্যান্য পরিষেবা সুবিধা প্রদানের দাবিতে চলমান মামলার প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ লোক আদালতে অনুষ্ঠিত শুনানিতে ত্রিপুরা রাজ্য সরকার সমঝোতার পথে হাঁটতে রাজি হয়নি বলে জানা গেছে। ফলে বহু প্রতীক্ষিত এই মামলার নিষ্পত্তি আপাতত আরও পিছিয়ে গেল। আজ আগরতলায় পশ্চিম জেলা আইনসেবা কর্তৃপক্ষের সচিব রামানুজ ভট্টাচার্যের চেম্বারে আজ এই শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। শিক্ষা দফতর এবং অর্থ দপ্তরের আধিকারিকরা মীমাংসায় রাজি হননি।
শুনানিতে উপস্থিত টিটিডিসি এর সভাপতি বাদল পাল জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, তারা সুপ্রিম কোর্টের রায়ে যা হয় তা মেনে নেবেন। তবে লোক আদালতের সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ তারা। উল্লেখ্য, গত ৮ জানুয়ারি ত্রিপুরা উচ্চ আদালত টিআরবিটি – র মাধ্যমে নিযুক্ত শিক্ষকদের চাকরির প্রথমদিন থেকে নিয়মিত করণের পক্ষে রায় দিয়েছিল।
তবে এই রায় কার্যকর হলে রাজ্যের উপর বিপুল আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে বলে যুক্তি দেখিয়ে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে বিশেষ অনুমতি আবেদন দাখিল করে। সরকারের দাবি, হাইকোর্টের নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে গেলে বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হবে, যা বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতিতে বহন করা কঠিন।
এরই মধ্যে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ লোক আদালতে মীমাংসার জন্য তোলা হয়। কিন্তু শুনানিতে সরকার সমঝোতার প্রস্তাবে সম্মত না হওয়ায় কোনো ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
এদিকে শিক্ষক সংগঠনগুলির দাবি, তারা নিয়মিত নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্থায়ী পদে চাকরি পেয়েছেন এবং একই কাজ করার পরও দীর্ঘদিন ধরে পূর্ণ বেতন-স্কেল থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাই হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী চাকরির প্রথম দিন থেকেই নিয়মিত বেতন ও সমস্ত পরিষেবা সুবিধা দেওয়া উচিত।



















