বিশালগড়, ২৪ জুন : পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার গোলাঘাট অন্তর্গত কোলাঘাটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় এক মহিলার উপর নৃশংস নির্যাতনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরকীয়ার অভিযোগ তুলে স্থানীয় এক তিপ্রা মথা নেতার নেতৃত্বে মহিলাকে বেধড়ক মারধর করার পাশাপাশি বর্বরোচিত নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় বর্তমানে আগরতলার জিবিপি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই মহিলা জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ, তিন দিন আগে স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে নির্যাতিতার আপত্তিকর ছবি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে গ্রামে একটি সালিশি সভা বসে। সেখানে মৌখিকভাবে বিষয়টির মীমাংসা হলেও পরে স্থানীয় তিপ্রা মথা নেতা টিটন আলী ওরফে সুমনের নেতৃত্বে কয়েকজন মহিলা ও পুরুষ নির্যাতিতার বাড়িতে গিয়ে তাঁকে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ। এরপর একটি মাঠে নিয়ে গিয়ে তাঁকে মারধর করা হয়। পরে একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে তাঁর উপর আরও নির্মম নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
গুরুতর জখম অবস্থায় নির্যাতিতার স্বামী প্রথমে তাঁকে বিশালগড় মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে দ্রুত জিবিপি হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে তাঁর জটিল অস্ত্রোপচার হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার পর টাকারজলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের। যদিও পরে জম্পুইজলা মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এদিকে, মূল অভিযুক্ত টিটন আলীকে থানায় নিয়ে গিয়ে কিছুক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে, যা ঘিরে টাকারজলা থানার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত টিটন আলী কিংবা তিপ্রা মথার পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পুলিশের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, ঘটনার সমস্ত অভিযোগ অভিযোগকারীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়েছে। পুলিশের তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।



















