ইম্ফল, ২৩ জুন (আইএএনএস): মণিপুর ৩৬টি সম্প্রদায়ের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল উদাহরণ এবং ভারতীয় ক্রীড়াক্ষেত্রে রাজ্যটির অবদান অতুলনীয় বলে মন্তব্য করেছেন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ইয়ুমনাম খেমচন্দ সিং।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অলিম্পিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিক ডে রান’ এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, “মণিপুর এমন একটি ভূমি যেখানে ৩৬টি সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে আসছে। দেশের কোনও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দলই মণিপুরের খেলোয়াড়দের ছাড়া সম্পূর্ণ হয় না।”
ইম্ফলের খুমান লাম্পাক স্পোর্টস কমপ্লেক্সে অবস্থিত অলিম্পিক ভবন প্রাঙ্গণে মণিপুর অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন-এর উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মণিপুরের ক্রীড়াবিদরা ধারাবাহিকভাবে দেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছেন। তাঁদের অসাধারণ সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবেই দেশের প্রথম ন্যাশনাল স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি মণিপুরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামোগত কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে এবং সম্প্রতি তিনি নিজেই ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেছেন।
নিজের খেলোয়াড় জীবনের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি একসময় তায়কোয়ান্দো খেলোয়াড় ছিলেন। তাঁর মতে, পদক জয় বা এশিয়ান গেমস ও অলিম্পিকের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশের প্রতিনিধিত্ব করা গুরুত্বপূর্ণ হলেও খেলাধুলা থেকে সবচেয়ে বড় শিক্ষা হল শৃঙ্খলা।
তিনি তরুণ খেলোয়াড়দের শিক্ষক ও প্রশিক্ষকদের সম্মান করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সম্প্রদায় নির্বিশেষে সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং খেলাধুলার পাশাপাশি শিক্ষা ও জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অধ্যবসায় ও দৃঢ়তা গড়ে তোলার পরামর্শ দেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মণিপুরের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী কোন্থৌজাম গোবিন্দাস সিং। তিনি বলেন, ভারত ২০৩৬ সালের অলিম্পিক আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং সেই লক্ষ্য সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের চিহ্নিত ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
গোবিন্দাস সিং জানান, জনসংখ্যার নিরিখে ছোট রাজ্য হওয়া সত্ত্বেও মণিপুর ১৯ জন অলিম্পিয়ান উপহার দিয়েছে, যা অনেক বড় রাজ্যের তুলনায়ও উল্লেখযোগ্য সাফল্য।
তিনি আরও বলেন, ১৯৯৯ সালে অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় গেমসের সময় কেনা অনেক ক্রীড়া সরঞ্জাম বর্তমানে আধুনিক প্রতিযোগিতার মানদণ্ডের সঙ্গে আর সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। খেলোয়াড়দের উন্নত সুযোগ-সুবিধা দিতে চলতি অর্থবর্ষে আধুনিক ক্রীড়া সরঞ্জাম কেনার জন্য ৫ কোটি টাকা বরাদ্দের আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মন্ত্রী খেলোয়াড়দের মাদক থেকে দূরে থাকার এবং সুস্থ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বানও জানান।
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী আন্তর্জাতিক অলিম্পিক ডে রানের সূচনা করেন এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেন।
এদিনের অনুষ্ঠানে একাধিক বিধায়ক, ক্রীড়া সংগঠনের প্রতিনিধিরা, শীর্ষ সরকারি আধিকারিক, ক্রীড়াবিদ ও খেলোয়াড়রা উপস্থিত ছিলেন।



















