নয়াদিল্লি, ২৩ জুন (আইএএনএস): ভারত-যুক্তরাজ্য সমন্বিত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য চুক্তি (সিইটিএ) দেশের কৃষক, মৎস্যজীবী, কারিগর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের জন্য নতুন সুযোগের দ্বার খুলে দেবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল।
মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে তিনি বলেন, “এটি একটি প্রকৃত জনমুখী চুক্তি। যুক্তরাজ্যের প্রিমিয়াম বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করে এটি মহিলা উদ্যোক্তা, যুব সমাজ, স্টার্টআপ এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই)-এর জন্য আকর্ষণীয় বৈশ্বিক সম্ভাবনার পথ খুলে দেবে। একইসঙ্গে ভারতের মৌলিক স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখে সমাজের পিছিয়ে পড়া অংশকেও ক্ষমতায়িত করবে।”
মন্ত্রী আরও বলেন, এই ঐতিহাসিক চুক্তির ফলে ভারতীয় কৃষক, মৎস্যজীবী, কারিগর এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আন্তর্জাতিক বাজারে আরও বেশি সাফল্য অর্জন করতে পারবেন। পাশাপাশি কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ মানুষ প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে উন্নতমানের পণ্য কেনার সুযোগ পাবেন।
আগামী ১৫ জুলাই থেকে কার্যকর হতে চলা এই চুক্তির ফলে যুক্তরাজ্যের বাজারে ভারতীয় পণ্যের জন্য ব্যাপক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হবে। বিশেষ করে শ্রমনির্ভর শিল্পক্ষেত্রগুলিতে এর সুফল বেশি মিলবে। চুক্তি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রায় ৯৯ শতাংশ শুল্ক লাইনে শুল্ক তুলে নেওয়া হবে, যা প্রায় ১০০ শতাংশ বাণিজ্য মূল্যের আওতায় পড়ে। এর ফলে ভারতীয় রপ্তানির জন্য বিশাল সুযোগ তৈরি হবে বলে জানান গোয়েল।
গত বছর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার-এর উপস্থিতিতে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
গোয়েলের মতে, এই চুক্তির সুবিধা সমাজের বিভিন্ন স্তরে পৌঁছাবে। কৃষকরা উচ্চমূল্যের রপ্তানি বাজারে প্রবেশাধিকার পাবেন, মৎস্যজীবীরা যুক্তরাজ্যের বৃহৎ বাজারে সামুদ্রিক খাদ্য রপ্তানির সুযোগ বাড়াতে পারবেন এবং শ্রমনির্ভর শিল্পে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি মহিলা উদ্যোক্তা, যুব সমাজ, স্টার্টআপ ও এমএসএমই-গুলি বৈশ্বিক মূল্যশৃঙ্খলে যুক্ত হওয়ার আরও সুযোগ পাবে।
তিনি জানান, হলুদ, গোলমরিচ, এলাচ এবং আমের পাল্প, আচার ও ডালের মতো প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য যুক্তরাজ্যের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। এর ফলে কৃষিপণ্য রপ্তানি বাড়বে, কৃষকদের আয় বৃদ্ধি পাবে এবং মানোন্নয়ন, প্যাকেজিং ও সার্টিফিকেশনে উৎসাহ বাড়বে।
তবে দেশের কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য দুগ্ধজাত পণ্য, শস্য, মিলেট, আপেল, ওটস এবং ভোজ্যতেলের মতো সংবেদনশীল কৃষিখাতকে এই চুক্তির আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা, অভ্যন্তরীণ মূল্যস্থিতি এবং ক্ষুদ্র কৃষকদের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
গোয়েল আরও বলেন, যুক্তরাজ্যের বিশাল বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার ভারতের উৎপাদন খাতকে নতুন গতি দেবে। ঐতিহ্যবাহী কারিগর, বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং আঞ্চলিক শিল্পকেন্দ্রগুলি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারবে। ফুটবল, ক্রিকেট সরঞ্জাম, রাগবি বল, খেলনা এবং অন্যান্য পণ্য প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলিও যুক্তরাজ্যে ব্যবসা সম্প্রসারণের বড় সুযোগ পাবে।
তিনি বলেন, “তিরুপ্পুরের তাঁতশিল্প থেকে বেঙ্গালুরুর গবেষণাগার, সুরাটের হিরে শিল্পী থেকে হায়দরাবাদের সফটওয়্যার বিশেষজ্ঞ— এই চুক্তি দেশের বাস্তব অর্থনীতির প্রতিটি স্তরকে স্পর্শ করবে।”
________



















