কলকাতা, ২৩ জুন (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার আরামবাগ এলাকায় মঙ্গলবার একটি যাত্রীবোঝাই বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে উল্টে পড়ে গেলে দুই মহিলার মৃত্যু হয় এবং অন্তত ৩০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রায় ৫০ জন যাত্রী নিয়ে বাসটি পূর্ব বর্ধমানের বর্ধমান শহর থেকে হুগলির তারকেশ্বরের উদ্দেশে যাচ্ছিল। আরামবাগের আদমবাঁধ এলাকায় পৌঁছলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এরপর বাসটি রাস্তার পাশের খাদে উল্টে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশও ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে যোগ দেয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলেই দুই মহিলা যাত্রীর মৃত্যু হয়। মৃতদের নাম লক্ষ্মী মুর্মু (৬৫) এবং শর্মিলা সোরেন (৩৫)। তাঁরা দু’জনেই পূর্ব বর্ধমান জেলার ধাদন এলাকার বাসিন্দা। তারকেশ্বর মন্দিরে পুজো দিতে যাওয়ার পথেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হন তাঁরা।
ময়নাতদন্তের পর মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আহতদের উদ্ধার করে আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিযোগ, দুর্ঘটনাস্থলে অ্যাম্বুল্যান্স পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। এছাড়া রাস্তার বেহাল অবস্থাকেও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী করেছেন তাঁরা। স্থানীয়দের দাবি, বহুবার রাস্তা সংস্কারের আবেদন জানানো হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ি এলাকায় জাতীয় সড়ক ২৭-এ উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের একটি যাত্রীবাহী বাস দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রেলারের পিছনে ধাক্কা মারলে চারজনের মৃত্যু হয় এবং ১০ জন গুরুতর আহত হন।
_______



















