নয়াদিল্লি, ২৩ জুন (আইএএনএস): ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন মঙ্গলবার দলের সদর দফতরে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ৭৩তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে অনুচ্ছেদ ৩৭০ বিলোপই ড. মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্ন ও আত্মত্যাগের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধাঞ্জলি।
এদিন বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) বি.এল. সন্তোষ এবং দলের প্রবীণ নেত্রী বসুন্ধরা রাজে-এর উপস্থিতিতে আয়োজিত স্মরণসভায় অংশ নেন নীতিন নবীন। ভারতীয় জনসংঘের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
ড. মুখোপাধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নীতিন নবীন বলেন, “৭৩তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আমি তাঁকে বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই। তিনি ছিলেন একজন দৃঢ় জাতীয়তাবাদী, মহান চিন্তাবিদ এবং দেশের প্রথম শিল্পমন্ত্রী। তিনি যে স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং যে আত্মত্যাগ করেছিলেন, তার বাস্তবায়ন আজ আমরা প্রত্যক্ষ করছি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে কাশ্মীর থেকে অনুচ্ছেদ ৩৭০ বিলোপ ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধাঞ্জলি।”
তিনি আরও বলেন, ড. মুখোপাধ্যায় সারা জীবন দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতার জন্য কাজ করেছেন এবং একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ ভারতের আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন।
এদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপি নেতারা তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং জাতি গঠনে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করেন।
উত্তর প্রদেশের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক-ও ড. মুখোপাধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “স্বাধীনতার পর নতুন ভারত গঠনে তাঁর অবদান ছিল অসামান্য। তিনি দরিদ্র ও সাধারণ মানুষের অধিকার এবং কল্যাণের জন্য কাজ করেছেন। তাঁর প্রচেষ্টার ফলেই জম্মু ও কাশ্মীর আজ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং গর্বের প্রতীক।”
এর আগে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা, দিল্লি বিজেপি সভাপতি হর্ষ মালহোত্রা-সহ একাধিক বিজেপি নেতা ড. মুখোপাধ্যায়ের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রেখা গুপ্তা বলেন, “আজ সেই মহান ব্যক্তিত্বকে স্মরণ করার দিন, যিনি বিজেপির বীজ বপন করেছিলেন, যা আজ এক বিশাল বটবৃক্ষে পরিণত হয়েছে। তিনি নিজেই ছিলেন এক যুগ। আমরা তার সামান্য অংশমাত্র। তিনি ছিলেন এক সম্পূর্ণ গ্রন্থ, আর আমরা তার একটি শব্দমাত্র।”
তিনি আরও বলেন, ড. মুখোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার পদ ত্যাগ করে দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে দেশের উন্নয়নের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করার আহ্বানও জানান তিনি।



















