আগরতলা, ২৩ জুন: এইমস, নিউ দিল্লি এবং ত্রিপুরা সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক এর প্রেক্ষিতে যে অগ্রগতি হয়েছে এ বিষয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা এবং স্বাস্থ্য সচিব কিরণ গিত্তের নেতৃত্বে স্বাস্থ্য দপ্তরের ভূমিকার কথা এইমস এর বিশেষজ্ঞ দল উল্লেখ করলেন। মৌ অনুযায়ী রাজ্য সরকারের তরফে নির্ধারিত পদক্ষেপ সমূহগুলির মধ্যে বেশিরভাগই রাজ্য সরকার দ্রুতগতিতে বাস্তবায়ন করেছে। এইমস, নিউদিল্লির সহযোগিতায় ত্রিপুরা সরকার স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে উন্নতির জন্য যে প্রয়াস নিয়েছে, তার বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে পর্যালোচনার লক্ষ্যে আজ (২৩ জুন,২০২৬) মহাকরণে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আলোচনা হয়েছে।
আজকের এই পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য সচিব কিরণ গিত্তে, স্বাস্থ্য অধিকারের অধিকর্তা ডাঃ দেবশ্রী দেববর্মা, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকারের ভারপ্রাপ্ত অধিকর্তা প্রফেসর (ডাঃ) অভিজিৎ দত্ত, আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড জিবিপি হাসপাতালের প্রিন্সিপাল প্রফেসর (ডাঃ) তপন মজুমদার, আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড জিবিপি হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট ডাঃ বিধান গোস্বামী, এইমস, নিউ দিল্লির প্রাক্তন অধিকর্তা, বর্তমানে নীতি আয়োগের সদস্য প্রফেসর (ডাঃ) এম শ্রীনিবাস এবং প্রফেসর (ডাঃ) আগরওয়াল। বিশেষজ্ঞ দল রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
টেলিমেডিসিনের কনফারেন্সের মাধ্যমে চিকিৎসা ব্যবস্থা, বহির্রাজ্যে রোগীদের রেফার এর সংখ্যা কমিয়ে আনা সহ রাজ্য সরকারের বিভিন্ন বলিষ্ঠ পদক্ষেপের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন তারা। পাশাপাশি রাজ্যে শিশু মৃত্যুর হার এক অংকে নামিয়ে আনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ তারা দিয়েছেন। রাজ্যে বর্তমানে শিশু মৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ১২, জাতীয় স্তরে এই হার হল ২৪। এই হার হ্রাস করার ক্ষেত্রে আগামী মাসে জাতীয় গ্রামীণ স্বাস্থ্য মিশনের অধিকর্তার কার্যালয়ে রাজ্য স্তরের হাসপাতাল, জেলা স্তরের হাসপাতালের প্রশাসনিক কাজে নিযুক্ত চিকিৎসকদের নিয়ে প্রফেসর (ডাঃ) এম শ্রীনিবাস এবং নয়াদিল্লিস্থিত এইমস-র চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে আলোচনাক্রমে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। ত্রিপুরা মেডিক্যাল এডুকেশনের অধীনে প্রমোশনসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা আকর্ষণীয় করার উপরও পরামর্শ প্রদান করেন বিশেষজ্ঞদল।
প্রসঙ্গত গত ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ মুখ্যমন্ত্রীর ওয়ার রুমে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গত ১৭ অক্টোবর ২০২৫ স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (মৌ)-এর পরিপ্রেক্ষিতে গৃহীত পদক্ষেপ সমূহ সংক্রান্ত অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট নিয়ে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা এবং এইমস, নিউ দিল্লির ডাইরেক্টর প্রফেসর (ডাঃ) এম. শ্রীনিবাস এবং উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে পর্যালোচনা করেন। মৌ অনুসারে স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কর্মীবাহিনী গঠন, আর্থিক ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আইটি-সক্ষম ব্যবস্থার উন্নয়নসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সংস্কার প্রক্রিয়াধীন ও আংশিকভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। কর্মচারী নিয়োগ ও মানব সম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সরকারি নিয়ম অনুযায়ী স্বাস্থ্য অধিকার ও ত্রিপুরা পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে।
ফ্যাকাল্টি ডেভেলপমেন্ট, প্রশিক্ষণ ও স্কিল আপগ্রেডেশনের জন্য এইমস-এর সঙ্গে সমন্বয়ে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চিকিৎসা শিক্ষা ও একাডেমিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন বিভাগ চালু, স্কিল ডেভেলপমেন্ট কোর্স, সার্ভিস রুল সংশোধন এবং এইমস-এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চিকিৎসা শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। হাসপাতাল পরিষেবা ও পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে জরুরি পরিষেবা, আইসিইউ সম্প্রসারণ, ওটি কার্যকরিকরণ, পিপিপি মডেলে আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন এবং সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থার উন্নয়নের কাজ চালু রয়েছে। রোগী সন্তুষ্টি ও ডিজিটাল উদ্যোগের ক্ষেত্রে ‘মেরা হাসপাতাল’ অ্যাপ বিদ্যমান রয়েছে এবং এইমসের ‘সন্তুষ্ট’ অ্যাপ গ্রহণের বিষয়ে সমন্বয় করা হয়েছে, যাতে রোগীর মতামত সংগ্রহ ও পরিষেবার গুণগত মান আরও উন্নত করা যায়।



















