কোচি, ২১ জুন (আইএএনএস): কেরলে বেআইনি অঙ্গ পাচার চক্রের তদন্তে বড়সড় পদক্ষেপ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় মোট ৯টি স্থানে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতাল-সংক্রান্ত নথি বাজেয়াপ্ত করেছে তদন্তকারী সংস্থা। পাশাপাশি অভিযুক্তদের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও ফ্রিজ করা হয়েছে বলে রবিবার জানানো হয়েছে।
ইডির কোচি জোনাল অফিস ১৮ জুন অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন (পিএমএলএ), ২০০২-এর আওতায় এই তল্লাশি অভিযান চালায়। তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কেরলজুড়ে সক্রিয় একটি বৃহৎ অঙ্গ পাচার চক্র, যার সঙ্গে এর্নাকুলামের কয়েকটি হাসপাতালে বেআইনি প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়ার যোগসূত্র পাওয়া গেছে।
ইডি জানিয়েছে, অবৈধ অঙ্গ ব্যবসায় জড়িত এজেন্ট ও মধ্যস্থতাকারীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির ব্যাঙ্ক লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করে অর্থের উৎস, প্রবাহ এবং অর্থ পাচারের সম্ভাব্য স্তরগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কেরল পুলিশের দায়ের করা একাধিক এফআইআরের ভিত্তিতে ইডি তদন্ত শুরু করে। তদন্তে উঠে এসেছে, বৈধ ‘নিঃস্বার্থ অঙ্গদান’ এবং মেডিক্যাল ট্যুরিজমের আড়ালে একটি সুসংগঠিত অপরাধচক্র জাল নথি তৈরি, প্রতারণা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং অঙ্গ পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে মহম্মদ নাজিব কে এবং তাঁর সহযোগী রশিদা এ.এ.-এর নেতৃত্বে ‘কল্লাথারাস মেডিক্যাল ট্যুরিজম প্রাইভেট লিমিটেড’ নামে একটি সংস্থার মাধ্যমে এই চক্র পরিচালিত হত।
ইডির দাবি, এজেন্ট ও দালালদের মাধ্যমে আর্থিকভাবে দুর্বল ব্যক্তিদের অঙ্গদানে প্রলুব্ধ করা হত। দাতাদের ৫ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও গ্রহীতাদের কাছ থেকে ২০ থেকে ৩৫ লক্ষ টাকা বা তারও বেশি অর্থ নেওয়া হত।
তদন্তে আরও জানা গেছে, পুলিশি অনুমোদনপত্র, জনপ্রতিনিধিদের সুপারিশপত্র, আধার কার্ড, রেশন কার্ড-সহ একাধিক সরকারি নথি জাল করা হয়েছিল। এর্নাকুলামের পাল্লিক্কারায় অবস্থিত ‘সান কমিউনিকেশনস ডিটিপি সেন্টার’ এবং ‘সাইন এইচডি ডিজিটাল স্টুডিও’-তে এই জালিয়াতি সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ।
এরপর ওই জাল নথির ভিত্তিতে এর্নাকুলামের বিভিন্ন বড় হাসপাতালে বেআইনি অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা করা হত বলে জানিয়েছে ইডি।
তল্লাশি অভিযানে জাল নথি, অঙ্গ প্রতিস্থাপন সংক্রান্ত বিস্তৃত তথ্য, দাতা ও গ্রহীতাদের বিবরণ, জেলা স্তরের অনুমোদন কমিটির কাছে জমা দেওয়া নথি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধার হয়েছে।
এছাড়াও অভিযুক্ত এবং তাঁদের সহযোগীদের নামে থাকা স্থাবর সম্পত্তির তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। অপরাধলব্ধ অর্থ দিয়ে কোনও সম্পদ কেনা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ইডির বক্তব্য, অপরাধলব্ধ অর্থের উৎস শনাক্ত করা, চক্রের প্রকৃত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করা এবং আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ সংগ্রহের লক্ষ্যেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।



















