নয়াদিল্লি, ২০ জুন (আইএএনএস): আইসিসি মহিলা টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ ‘এ’-তে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ভারতের ওপেনিং জুটি স্মৃতি মন্ধনা ও শেফালি ভার্মা তাঁদের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে চলেছেন বলে মনে করছেন ভারতের প্রাক্তন পেসার শিখা পান্ডে।
জিওস্টারে কথা বলতে গিয়ে শিখা বলেন, “ভারতের ওপেনিং জুটি বহুবার দলকে দুর্দান্ত সূচনা এনে দিয়েছে। কিন্তু এবার তাদের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং আক্রমণ এই বিশ্বকাপের সেরা। নতুন বলে তাদের পেস জুটি টুর্নামেন্টের অন্যতম ভয়ঙ্কর।”
দক্ষিণ আফ্রিকার অভিজ্ঞ পেসার শাবনিম ইসমাইল এবং অলরাউন্ডার মারিজান ক্যাপ-কে ভারতের জন্য বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন শিখা।
তিনি বলেন, “শাবনিম ইসমাইল দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেছে এবং ভালো গতিতে বোলিং করছে। মারিজান কাপ ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তিনটি উইকেট নিয়েছে এবং অসাধারণ নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে বল করছে। সুইং, সিম এবং বাউন্স—সবকিছু দিয়েই তারা ভারতীয় ওপেনারদের কঠিন পরীক্ষায় ফেলবে।”
এছাড়াও, আয়াবোঙ্গা খাকা-র বল ডানহাতি ব্যাটারদের থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা দক্ষিণ আফ্রিকার আক্রমণকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ধানাকে নিয়ে শিখা বলেন, “অতীতে স্মৃতি মন্ধানা শরীর থেকে দূরের বল ড্রাইভ করতে গিয়ে স্লিপ বা উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হয়েছে। তাই নড়াচড়া করা বলের বিরুদ্ধে ওকে অনেক বেশি বেছে শট খেলতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “শাবনিম ইসমাইল বনাম শেফালি বর্মার লড়াই দারুণ জমজমাট হবে। শেফালি চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসে, আর ইসমাইল বাউন্সার ব্যবহার করতে ভয় পায় না।”
মন্ধানার ব্যাটিংয়ের বিবর্তনেরও প্রশংসা করেছেন শিখা। তাঁর মতে, ভারতের সহ-অধিনায়ক এখন শুধু টাইমিং-নির্ভর ব্যাটার নন, বরং শক্তিশালী শট খেলার ক্ষেত্রেও নিজেকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন।
শিখা বলেন, “স্মৃতি তার পাওয়ার-হিটিং নিয়ে প্রচুর পরিশ্রম করেছে। ডব্লিউপিএল ফাইনালে আমরা তার নিখুঁত উদাহরণ দেখেছি, যেখানে সে ডিপ মিডউইকেট অঞ্চলে দুর্দান্ত শট খেলেছিল। এখন সে ইনফিল্ডের ওপর দিয়ে বল তুলে বাউন্ডারি আদায় করতে পারছে এবং ফিল্ডিং পজিশনও নিজের সুবিধামতো ব্যবহার করছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আগে স্মৃতির প্রধান রান তোলার এলাকা ছিল না ডিপ স্কোয়ার লেগ, কিন্তু এখন সে সেখানে অনায়াসে রান করছে। নিজের খেলায় প্রচলিত সুইপ শটও যোগ করেছে। সামনে এগিয়ে এসে সে সোজা খেলতে চায়, আর তা সম্ভব না হলে কভারের ওপর দিয়ে মারার বিকল্প পরিকল্পনা থাকে। ব্যাকফুটে ওর খেলা বরাবরই শক্তিশালী ছিল, তবে পাওয়ার-হিটিং যোগ করে সে এখন সম্পূর্ণ টি-২০ ব্যাটারে পরিণত হয়েছে।”
শিখার মতে, এখন মন্ধানা উইকেটের দুই পাশেই সমান দক্ষতায় আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম, যা তাকে টি-২০ ক্রিকেটের অন্যতম পরিপূর্ণ ব্যাটারে পরিণত করেছে।



















