পাটনা, ৪ আগস্ট (আইএএনএস): বিহারের বাঁকিপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপির পরাজয়ের জন্য নেতৃত্ব পরিবর্তনকেই দায়ী করলেন জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর বিধায়ক অনন্ত সিংহ। তাঁর দাবি, নীতীশ কুমার মুখ্যমন্ত্রীর পদে বহাল থাকলে বিজেপিকে এই পরাজয়ের মুখে পড়তে হত না।
বাঁকিপুর উপনির্বাচনে জন সুরাজের প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর বিজেপি প্রার্থী নীরজ কুমার সিনহাকে ১৮,৯৬৩ ভোটে পরাজিত করে জয়ী হওয়ার পর মঙ্গলবার এই মন্তব্য করেন অনন্ত সিংহ। এই জয়ের ফলে দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে বাঁকিপুরে বিজেপির দখলও শেষ হয়েছে।
আইএএনএস-কে অনন্ত সিংহ বলেন, “জনগণই আসল মালিক। মানুষ যাঁকে ভোট দেয়, তিনিই জয়ী হন। মানুষ এই বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি যে, যাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করা হয়েছিল, তাঁকে মাঝপথে সরিয়ে অন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “নীতীশ কুমার যদি মুখ্যমন্ত্রী থাকতেন, তাহলে এই পরিস্থিতি তৈরি হতো না। মানুষ এটা পছন্দ করেনি। সম্রাট চৌধুরী মুখ্যমন্ত্রী হওয়া বড় বিষয় নয়, কারণ মানুষ নীতীশ কুমারকেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করেছিল।”
অনন্ত সিংহের দাবি, এখনও রাজ্যের বড় অংশের মানুষ মনে করেন, জনমতের বিরুদ্ধে গিয়ে নীতীশ কুমারকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও তিনি নিজেই এই ধারণাকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন।
তাঁর কথায়, “অনেকেই বলেন, আমরা নীতীশ কুমারকে মুখ্যমন্ত্রী করেছি, বিজেপি তাঁকে তাঁর সম্মতি ছাড়াই সরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এই দাবি ঠিক নয়। নীতীশ কুমার নিজেই পদ ছেড়েছেন। তবে মানুষ সেটা মানতে চাইছে না। সবাই নীতীশ কুমারের উপরই বিশ্বাস রাখে।”
এদিকে, বিজেপির দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বাঁকিপুরে জয় পেতে প্রশান্ত কিশোর তৃণমূল স্তরে ব্যাপক প্রচার চালান। সুশাসন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের ইস্যুকে সামনে রেখে তিনি বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর ভোটারদের সমর্থন আদায়ে সফল হন। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নির্বাচনে প্রচলিত জাতিগত সমীকরণের প্রভাব অনেকটাই কমে যায় এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ভোটাররা জন সুরাজের পক্ষে একজোট হন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাঁকিপুরের মতো বিজেপির দীর্ঘদিনের নিরাপদ আসনে এই পরাজয় শুধু একটি উপনির্বাচনের ফল নয়, বিহারের রাজনৈতিক সমীকরণেও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে। (আইএএনএস)



















