ফিলাডেলফিয়া, ২০ জুন (আইএএনএস): ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ সি-তে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে ব্রাজিলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে বড় সুখবর পেল সেলেসাও শিবির। ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনসেলোত্তি নিশ্চিত করেছেন যে তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার আগামী ম্যাচের জন্য উপলব্ধ থাকবেন।
৩৪ বছর বয়সি নেইমার গত ১৭ মে সান্তোস এফসি-এর হয়ে খেলার সময় ডান পায়ের কাফে চোট পান। সেই কারণে তিনি বিশ্বকাপে এখনও মাঠে নামতে পারেননি। মরক্কোর বিরুদ্ধে ১-১ ড্র হওয়া প্রথম ম্যাচ এবং হাইতির বিরুদ্ধে ৩-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচ—দুইটিতেই তিনি অনুপস্থিত ছিলেন।
হাইতির বিরুদ্ধে জয়ের পর আনচেলত্তি জানান, “নেইমার আগামীকাল একা অনুশীলন করবে এবং সোমবার দলের সঙ্গে অনুশীলনে যোগ দেবে। স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচে সে খেলতে পারবে।”
বিশ্বকাপ স্কোয়াডে যোগ দেওয়ার পর এখনও পর্যন্ত ব্রাজিল দলের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনে অংশ নেননি নেইমার। চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনি আলাদা পুনর্বাসন কর্মসূচি অনুসরণ করছিলেন। মরক্কোর বিরুদ্ধে ম্যাচে তাকে বদলি খেলোয়াড়দের তালিকায় রাখা হলেও মাঠে নামানো হয়নি। পরে ব্রাজিল দল জানায়, দ্বিতীয়-স্তরের কাফ ইনজুরির কারণে তিনি পুনর্বাসনের জন্য নিউ জার্সিতেই থেকে গিয়েছিলেন।
নেইমারের প্রত্যাবর্তন ব্রাজিলের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ হাইতির বিরুদ্ধে ম্যাচে উইঙ্গার রাফিনহা প্রথমার্ধেই সম্ভাব্য হ্যামস্ট্রিং চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন। তার চোটের প্রকৃতি জানতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছেন আনচেলত্তি।
তিনি বলেন, “ওর অবস্থা মূল্যায়ন করতে হবে। চোট কতটা গুরুতর, তা এখনও জানা যায়নি।”
মরক্কোর বিরুদ্ধে হতাশাজনক ড্রয়ের পর সমালোচনার জবাব দিয়েছে ব্রাজিল। হাইতির বিরুদ্ধে ৩-০ গোলের জয়ে জোড়া গোল করেন ম্যাথিউস কুনহা এবং একটি গোল করেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। এই জয়ের ফলে নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা অনেকটাই উজ্জ্বল হয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
নেইমারের প্রত্যাবর্তন শুধু কৌশলগত নয়, মানসিক দিক থেকেও দলের জন্য বড় প্রেরণা হতে পারে। ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা এই তারকা ১২৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৭৯টি গোল করেছেন। এটি তার চতুর্থ এবং সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপ।
গ্রুপ পর্ব থেকে উত্তরণের লড়াই এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। রাফিনিয়ার চোট নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই এখন সবার নজর নেইমারের দিকে। বুধবার মিয়ামি গার্ডেন্সে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচে তার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রত্যাবর্তন ঘটতে পারে।



















