নয়াদিল্লি, ১৯ জুন (আইএএনএস): দীর্ঘ তিন মাসেরও বেশি সময় অপেক্ষার পর অবশেষে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে গুজরাটের দাহেজ বন্দরে পৌঁছেছে এলএনজি ট্যাঙ্কার ‘দিশা’। জাহাজটি ৬২,৩৭০ মেট্রিক টন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) নিয়ে শুক্রবার সকাল প্রায় ৭টা ৩২ মিনিটে দাহেজ টার্মিনালে নোঙর করে।
জাহাজ পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ‘দিশা’ দীর্ঘদিন উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থান করছিল। পরবর্তীতে নিরাপদে যাত্রা সম্পন্ন করে এটি ভারতে পৌঁছতে সক্ষম হয়।
ট্যাঙ্কারটিতে বহন করা এলএনজি কাতারের রাস লাফান এলএনজি টার্মিনাল থেকে বোঝাই করা হয়েছিল। বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের সংবেদনশীল পরিস্থিতির মধ্যে এই চালান ভারতের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
‘দিশা’ জাহাজটি শিপিং কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া (এসসিআই)-এর নেতৃত্বাধীন একটি কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে এবং এটি পেট্রোনেট এলএনজি লিমিটেডের জন্য চার্টার করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে জাহাজটির অতিক্রমণ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সূত্রের খবর, তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে উপসাগরীয় এলাকায় অবস্থানের পর ট্যাঙ্কারটি যাত্রা সম্পূর্ণ করে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে এর নিরাপদ অতিক্রমণ ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ভরুচ জেলার দাহেজ এলএনজি টার্মিনাল দেশের বৃহত্তম এলএনজি আমদানি কেন্দ্র এবং ভারতের প্রাকৃতিক গ্যাস বিতরণ ব্যবস্থায় এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ‘দিশা’-র আগমনের ফলে দেশে এলএনজির প্রাপ্যতা বাড়বে এবং শিল্প ও গৃহস্থালি খাতে স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পশ্চিম এশিয়ায়, বিশেষ করে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনার আবহে এলএনজি ট্যাঙ্কারটির নিরাপদ আগমন ভারতের জ্বালানি ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত মহলে স্বস্তি এনে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের একটি বড় অংশ পরিচালিত হয় এবং এই পথে যেকোনও বিঘ্ন আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
নিরাপদ সামুদ্রিক পথ বজায় রেখে ভারতের নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে এই যাত্রার সফল সমাপ্তি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।


















