আগরতলা, ৩ আগস্ট: সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত এক গর্ভবতী মহিলাকে ঘিরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। করবুক মহকুমার যতনবাড়ির বাসিন্দা শিখা চাকমা (২৮), যিনি ৩২ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা, বর্তমানে আগরতলা জিবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন তাঁর স্বামী রানা চাকমা।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই শারীরিক জটিলতার কারণে শিখা চাকমাকে প্রথমে নতুনবাজার গ্রামীণ হাসপাতাল, পরে অমরপুর মহকুমা হাসপাতাল এবং সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাঁপানিয়া হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর চিকিৎসকদের পরামর্শে বাড়ি ফেরার পথে বিশ্রামগঞ্জ বাজার এলাকায় তাঁদের ওয়াগনার গাড়িকে একটি ম্যাক্স গাড়ি ধাক্কা দেয়।
পরিবারের অভিযোগ, দুর্ঘটনায় শিখা চাকমার পেটে গুরুতর আঘাত লাগে। তারা আরও অভিযোগ করেন, ঘটনাস্থলে ট্রাফিক ডিউটিতে থাকা বিশ্রামগঞ্জ থানার কনস্টেবল হরেন্দ্র দেববর্মা আহত গর্ভবতী মহিলাকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর পরিবর্তে দুই পক্ষের মধ্যে আপস-মীমাংসার জন্য চাপ দেন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তিনি নাকি বিশ্রামগঞ্জ থানায় গিয়ে কোনও লাভ হবে না বলে মন্তব্য করেন এবং অভিযুক্ত গাড়ি ও চালককে ঘটনাস্থল ছেড়ে যেতে দেন।
পরে শিখা চাকমাকে বিশ্রামগঞ্জ হাসপাতাল থেকে জিবি হাসপাতালে রেফার করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা উদ্বেগজনক বলে পরিবারের দাবি।
এই ঘটনার পর রানা চাকমা মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহার কাছে লিখিত আবেদন জানিয়ে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যের প্রথম কাজ হওয়া উচিত ছিল আহত গর্ভবতী মহিলার দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদনও জানিয়েছেন তিনি।
























