নয়াদিল্লি, ১৯ জুন (আইএএনএস) : বিভ্রান্তিকর পণ্যের দাবি, ব্র্যান্ডিং, লেবেলিংয়ে অনিয়ম এবং ভোক্তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে মারিকো, ফেরেরো ইন্ডিয়া, বিকানেরওয়ালাসহ ১৪টি খাদ্য সংস্থাকে নোটিস পাঠিয়েছে ভারতের খাদ্য সুরক্ষা ও মান নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (এফএসএসএআই)। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ এফএসএসএআই জানিয়েছে, খাদ্য সুরক্ষা ও মান আইন, ২০০৬-এর বিভিন্ন ধারায় বিভ্রান্তিকর ব্র্যান্ড নাম, ট্রেড নাম, পণ্যের দাবি, লেবেলিং সংক্রান্ত অনিয়ম এবং অন্যান্য ভোক্তা অভিযোগের ভিত্তিতে এই নোটিস জারি করা হয়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ‘ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস (অ্যাডভার্টাইজিং অ্যান্ড ক্লেমস) রেগুলেশনস, ২০১৮’-এর লঙ্ঘন বা গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করতে পারে এমন একাধিক দাবি নিয়ে বিভিন্ন সংস্থাকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানো হয়েছে।
‘প্লাক্ক’ সংস্থার আমের রসের ক্ষেত্রে ‘নো অ্যাডেড সুগার’ দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এফএসএসএআই। কারণ, পণ্যের উপাদানের তালিকায় আমের পাল্পের পাশাপাশি আখের রসের উল্লেখ রয়েছে, যা গ্রাহকদের কাছে পণ্যের চিনির পরিমাণ সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ধারণা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছে সংস্থা।
এছাড়া ‘ন্যাচারাল পনির’ শব্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও আপত্তি জানানো হয়েছে। এফএসএসএআই-এর মতে, যৌগিক খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে ‘ন্যাচারাল’ শব্দ ব্যবহারের নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট পণ্যে সেই বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে।
গৌর হেলদি ফুডের ‘সিল্কেন টোফু’ সংক্রান্ত দাবি, মাস্টারচাও ফুডস প্রাইভেট লিমিটেডের ‘১০০ শতাংশ ন্যাচারাল’, ‘ফ্রেশলি মেড’ এবং ‘অর্গানিক ফ্লাওয়ার’ সংক্রান্ত দাবি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
ফেরেরো ইন্ডিয়ার ‘কিন্ডার জয় কোটেড ওয়েফার বিস্কুট’-এ ‘রিচ ইন মিল্ক সলিডস’ দাবির যথার্থতা নিয়েও নোটিস জারি হয়েছে। একইভাবে মারিকো লিমিটেডের ‘স্যাফোলা টোটাল হার্ট প্রো’ রান্নার তেলের ব্র্যান্ডিং এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত দাবিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এছাড়া মেডিজেন ল্যাবস, নেক্সা ইন্ডাস্ট্রিজ, র’ প্রেসারি, নিউট্রাসিউটিক্যালসের ‘ইনসিপ্রো গোল্ড পাউডার ভ্যানিলা’ এবং একটি কোরিয়ান জিনসেং পণ্যের বিভিন্ন স্বাস্থ্য ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির দাবি নিয়ে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ চাওয়া হয়েছে। এফএসএসএআই-এর মতে, এসব দাবির অনেকগুলিই বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী অনুমোদিত নয়।
অন্যদিকে, সামাজিক মাধ্যমে প্রাপ্ত ভোক্তা অভিযোগের ভিত্তিতে বিকানেরওয়ালা এবং পরম ডেয়ারি লিমিটেডকেও নোটিস পাঠানো হয়েছে।
বিকানেরওয়ালার বিরুদ্ধে অভিযোগ, পরিষেবা বা রান্নাঘরের এলাকায় কর্মঘণ্টার মধ্যে এক কর্মীকে খাবার খেতে দেখা গিয়েছিল, যা স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এ বিষয়ে সংস্থাটিকে তদন্ত, স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং পদ্ধতি এবং নেওয়া সংশোধনমূলক পদক্ষেপের বিবরণ জমা দিতে বলা হয়েছে।
পরম ডেয়ারি লিমিটেডের বিরুদ্ধে আইআরসিটিসি ক্যাটারিং পরিষেবায় সরবরাহ করা দই ও রাবড়িতে ছত্রাক সংক্রমণের অভিযোগ উঠেছে। সংস্থাটিকে সংশ্লিষ্ট পণ্যের তথ্য, মজুত ব্যবস্থাপনা, সংশোধনমূলক পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এফএসএসএআই জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সমস্ত খাদ্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে প্রযোজ্য খাদ্য নিরাপত্তা, বিজ্ঞাপন ও লেবেলিং বিধি মেনে চলতে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।























