নয়াদিল্লি, ১৫ জুন (আইএএনএস): তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-তে যোগ দেওয়া ২০ জন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন সমাজবাদী পার্টির প্রবীণ নেতা রামগোপাল যাদব। তাঁর অভিযোগ, যাঁদের রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁরাই এখন তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছেন।
আইএএনএস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রামগোপাল যাদব বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাঁদের আবর্জনা থেকে তুলে এনে মন্ত্রী, বিধায়ক ও সাংসদ বানিয়েছিলেন, তাঁরাই আজ তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছেন।”
একইসঙ্গে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিরুদ্ধেও তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, আঞ্চলিক দলগুলিকে দুর্বল করার পাশাপাশি দেশের সাংবিধানিক কাঠামোকেও ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে।
রামগোপাল যাদব বলেন, “ভারতীয় জনতা পার্টি শুধু আঞ্চলিক দলগুলিকে শেষ করছে না, তারা সংবিধানকে দুর্বল করছে এবং দেশকে বিভক্ত করার পথে এগোচ্ছে।”
এদিকে, তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠী বিজেপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের (এনডিএ) আরও কাছাকাছি যাচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে। বিদ্রোহী সাংসদ শতাব্দী রায়, যিনি সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে বৈঠক সেরে কলকাতায় ফিরেছেন, জানিয়েছেন যে তাঁদের রাজনৈতিক উদ্যোগ এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এনডিএ-র সঙ্গে হাত মেলানোর ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।
শতাব্দী রায় বলেন, “আমরা এখনও একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছি।” একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে বিদ্রোহী শিবির ভবিষ্যতে এনডিএ-র সঙ্গে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণ করতে চায়।
প্রথমে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় তৃণমূলের একাংশের বিদ্রোহের মাধ্যমে যে বিভাজনের সূচনা হয়েছিল, তা এখন সংসদ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, তাঁদের সঙ্গে ২০ জনেরও বেশি লোকসভা সদস্যের সমর্থন রয়েছে, যা তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য নতুন রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেস যে অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে, এটি তার অন্যতম বড় উদাহরণ। রাজ্য রাজনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে সেই বিভাজন এখন জাতীয় স্তরেও ছড়িয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস বিদ্রোহী সাংসদদের এনসিপিআই-তে যোগদানের সিদ্ধান্তকে ‘হাস্যকর’ বলে আখ্যা দিয়েছে। দলের অভিযোগ, এই পদক্ষেপ দলীয় ঐক্য ও সংহতিকে দুর্বল করার চেষ্টা।
উল্লেখ্য, এনসিপিআই নিজস্ব সাংগঠনিক পরিচয় বজায় রাখলেও সাধারণভাবে এনডিএ-র বৃহত্তর রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়ে এসেছে।



















