News Flash

  • Home
  • বিদেশ
  • পাকিস্তানের ‘ঘৃণার কারখানা’ ভারতবিরোধী মনোভাব উসকে দিয়ে ডিপ স্টেটকে টিকিয়ে রাখছে: রাষ্ট্রসংঘে ভারতের অভিযোগ
Image

পাকিস্তানের ‘ঘৃণার কারখানা’ ভারতবিরোধী মনোভাব উসকে দিয়ে ডিপ স্টেটকে টিকিয়ে রাখছে: রাষ্ট্রসংঘে ভারতের অভিযোগ

রাষ্ট্রসংঘ, ৯ জুন (আইএএনএস): পাকিস্তান একটি ‘সংগঠিত ঘৃণার কারখানা’ চালাচ্ছে, যা ধর্মীয় পরিভাষার অপব্যবহার করে নাগরিকদের মধ্যে ভারতের বিরুদ্ধে স্থায়ী বিদ্বেষ সৃষ্টি করছে এবং এর মাধ্যমে দেশের তথাকথিত ‘ডিপ স্টেট’ নিজেদের ক্ষমতা ও প্রভাব বজায় রাখছে বলে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে অভিযোগ তুলেছে ভারত।

সোমবার নিরাপত্তা পরিষদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পি. হরিশ বলেন, “নিজেদের ব্যর্থতার জন্য প্রতিবেশীদের দায়ী করা পাকিস্তানের পুরনো অভ্যাস। বিশ্বকে বিভ্রান্ত করার এই চেষ্টা সফল হবে না।”

তিনি অভিযোগ করেন, পাকিস্তান নিজেদের দেশের অভ্যন্তরে সক্রিয় কিছু গোষ্ঠীকে ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ নামে অভিহিত করার জন্য সরকারি সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে, যা আসলে ধর্মীয় পরিভাষার আড়ালে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় চালানো বিভ্রান্তিকর প্রচার।

‘ফিতনা’ একটি আরবি ধর্মীয় শব্দ, যার অর্থ প্রসঙ্গভেদে ‘বিদ্রোহ’, ‘অশান্তি’ বা ‘বিভ্রান্তি’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।

হরিশ বলেন, “এটি পাকিস্তানের ডিপ স্টেট পরিচালিত একটি সংগঠিত ঘৃণা-কারখানার ফল। এর উদ্দেশ্য হল দেশের নাগরিকদের মধ্যে ভারতের বিরুদ্ধে স্থায়ী শত্রুতা বজায় রাখা, যাতে তারা ক্ষমতায় থাকতে পারে, জাতীয় সম্পদের উপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারে এবং দেশের প্রকৃত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমস্যাগুলি থেকে মানুষের দৃষ্টি ঘুরিয়ে দিতে পারে।”

ভারতের প্রতিনিধি ‘ডিপ স্টেট’ বলতে মূলত পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রভাবকেই ইঙ্গিত করেছেন। তাঁর দাবি, গত বছরের সাংবিধানিক সংশোধনের মাধ্যমে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী দেশের রাজনৈতিক কাঠামোর উপর আরও শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।

হরিশ বলেন, “২৭তম সাংবিধানিক সংশোধনের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর কার্যত ক্ষমতা দখল তার সাম্প্রতিকতম উদাহরণ।”

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গত নভেম্বর মাসে গৃহীত ওই সংশোধনের ফলে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের ক্ষমতা আরও সুদৃঢ় হয়েছে এবং সরকারের উপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

আফগানিস্তান পরিস্থিতি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের আলোচনায় অংশ নিয়ে হরিশ সীমান্ত-পার সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই নিশ্চিত করা সম্ভব যে আইএসআইএল (ইসলামিক স্টেট), আল-কায়েদা এবং তাদের সহযোগী সংগঠনগুলি, যার মধ্যে লস্কর-ই-তইবা (এলইটি), জইশ-ই-মহম্মদ এবং এলইটির সহযোগী সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট রয়েছে, তারা আর সীমান্ত-পার সন্ত্রাসবাদে লিপ্ত হতে না পারে।”

হরিশের দাবি, এলইটির সহযোগী সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট গত বছরের এপ্রিল মাসে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের একটি পর্যটনকেন্দ্রে হামলার দায় স্বীকার করেছিল। ওই হামলায় ২৪ জন হিন্দু পর্যটক এবং একজন খ্রিস্টান নিহত হন।

Releated Posts

তদন্তে আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ মেলেনি, নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদে ফিরছেন সুধান গুরুং

কাঠমান্ডু, ৯ জুন: আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিতর্কের জেরে গত ২২ এপ্রিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া সুধান গুরুং…

ByByNews Desk Jun 9, 2026

ভারত-নেপাল সীমান্তে রিয়েল-টাইম ডিজিটাল লেনদেনের নতুন যুগ, চালু হল ইউপিআই-এনপিআই সংযোগ

নয়াদিল্লি, ৯ জুন: ভারত ও নেপালের মধ্যে রিয়েল-টাইম, স্বল্প খরচে এবং নিরাপদ সীমান্ত-পার অর্থ স্থানান্তরের সুবিধা চালু হল।…

ByByNews Desk Jun 9, 2026

বাংলাদেশে অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ সাংসদ রুমিন ফারহানার

ঢাকা, ৯ জুন (আইএএনএস): বাংলাদেশে ক্রমাবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।…

ByByNews Desk Jun 9, 2026

রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানের সমালোচনার জবাব ভারতের, আফগানিস্তান ও ইউএনএএমএ-র পাশে দিল্লি

রাষ্ট্রসংঘ, ৯ জুন (আইএএনএস): রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আফগানিস্তান এবং রাষ্ট্রসংঘের সহায়তা মিশন (ইউএনএএমএ)-এর বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সমালোচনার কড়া জবাব…

ByByNews Desk Jun 9, 2026

Leave a Reply

Scroll to Top