নিজস্ব প্রতিনিধি, গন্ডাছড়া, ৮ জুন: দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুতের ঘাটতি, লো-ভোল্টেজ এবং অনিয়মিত পরিষেবার কারণে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন নারকেলকুঞ্জ ও সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা। এই সমস্যার ফলে ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে হোম-স্টে মালিকরাও। অবশেষে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে সোমবার বিদ্যুৎ দপ্তরের দ্বারস্থ হন এলাকার প্রতিনিধিরা।
জানা গেছে, বিদ্যুতের অভাবে নারকেলকুঞ্জে আগত পর্যটকদের প্রয়োজনীয় পরিষেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছিল হোম-স্টে মালিকদের। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময় সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর বিদ্যুৎ দপ্তর এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করলেও তা পর্যাপ্ত ছিল না। লো-ভোল্টেজের কারণে পাখা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) এবং জল উত্তোলনের মোটর ঠিকভাবে চালানো সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান চেয়ে সোমবার হোম-স্টে অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন এলাকার মোট ১৪ জন প্রতিনিধি গন্ডাছড়া মহকুমা বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে ডেপুটেশন প্রদান করেন। এদিন সিনিয়র ম্যানেজার অনুপস্থিত থাকায় প্রতিনিধিদের কাছ থেকে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন জুনিয়র ম্যানেজার সঞ্জয় রিয়াং।
প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে নারকেলকুঞ্জ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্পন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। স্মারকলিপি গ্রহণের পর বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয় উভয় পক্ষের মধ্যে।
আলোচনা শেষে জুনিয়র ম্যানেজার সঞ্জয় রিয়াং জানান, মঙ্গলবার এলাকায় একটি নতুন ৬৩ কেভিএ ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আরও একটি ১০০ কেভিএ ট্রান্সফরমার বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে নারকেলকুঞ্জসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
বিদ্যুৎ দপ্তরের এই আশ্বাসে আশাবাদী হয়েছেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। তবে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দপ্তর কতটা তৎপরতা দেখায়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন নারকেলকুঞ্জ ও সংলগ্ন এলাকার সাধারণ মানুষ।
























