আগরতলা, ৮ জুন: তিপরা মথার বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহার নীরবতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে. সাংমা যেখানে ইনার লাইন পারমিট (আইএলপি) ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করছেন, সেখানে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও অবস্থান নিচ্ছেন না।
উত্তর-পূর্ব পরিষদের (এনইসি) ৭৩তম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রঞ্জিত দেববর্মা বলেন, মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে. সাংমা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়ে আইএলপি ব্যবস্থা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এটি মেঘালয় সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের স্বার্থে দৃঢ় অবস্থানেরই প্রতিফলন।
অন্যদিকে, রঞ্জিত দেববর্মার অভিযোগ, বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশের মতো স্পর্শকাতর বিষয়েও মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা কোনও মন্তব্য করেননি। তিনি বলেন, ত্রিপুরায় আইএলপি চালুর দাবি, ভাষার উন্নয়ন এবং ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (টিটিএএডিসি)-এর সার্বিক উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়েও রাজ্য সরকারের তরফে কার্যকর কোনও উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, টিটিএএডিসিকে অধিক ক্ষমতা প্রদান করার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ১২৫টি সংশোধনী বিল সম্পর্কেও মুখ্যমন্ত্রী কোনও প্রতিশ্রুতি দেননি। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এসব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কোনও বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।
রঞ্জিত দেববর্মা বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য রাজ্যের নেতারা জাতীয় স্তরে নিজেদের রাজ্যের স্বার্থ রক্ষায় সরব থাকলেও ত্রিপুরার নেতৃত্ব আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মূল সমস্যাগুলি তুলে ধরতে পিছিয়ে পড়ছে।
তিনি রাজ্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, টিটিএএডিসি এলাকার স্বার্থ সুরক্ষা, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ এবং আদিবাসী জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি-দাওয়া নিয়ে আরও সক্রিয় ও দৃঢ় ভূমিকা গ্রহণ করা জরুরি। তাঁর মতে, এসব বিষয় রাজ্যের সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
























