নয়াদিল্লি, ৮ জুন (আইএএনএস): পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির-এর সামনে ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে পরিস্থিতি। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর অভিযানের পর যে চাপ ও অস্বস্তির মুখে তিনি পড়েছেন, তা থেকে নজর ঘোরাতে গিয়ে একসঙ্গে একাধিক ফ্রন্টে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছেন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সূত্রের দাবি, আফগান তালিবান, তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)-র বিরুদ্ধে একই সময়ে অভিযান চালানোর ফলে পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় অংশ বিভিন্ন সংঘাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।
এর জেরে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে)-এ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ফাঁকফোকর তৈরি হয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রের দাবি। ইতিমধ্যেই পিওকে-র বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। রাওয়ালাকোটে সাম্প্রতিক এক সংঘর্ষে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর পাঁচ সদস্য নিহত হয়েছেন বলেও জানা গিয়েছে।
এক গোয়েন্দা আধিকারিকের মতে, গত ২৪ ঘণ্টার ঘটনাবলির পর প্রশাসন ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করেছে এবং বহু এলাকায় মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।
তাঁর দাবি, খাইবার পাখতুনখোয়া ও বালোচিস্তানের সংঘাত মোকাবিলায় বিপুল নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করায় পিওকে-তে জনবল সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অঞ্চলটির উপর যে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ছিল, তা দুর্বল হয়ে পড়েছে।
অন্য এক আধিকারিকের মতে, পিওকে-র পরিস্থিতি এখন আর শুধুমাত্র স্থানীয় অশান্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। মানবাধিকার লঙ্ঘন, উন্নয়নের অভাব এবং গণতান্ত্রিক অধিকার সংকোচনের অভিযোগ আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচিত হচ্ছে। ফলে পাকিস্তানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
সূত্রের দাবি, পিওকে-তে বিক্ষোভ ও দমন-পীড়নের প্রতিবাদে সম্প্রতি পাকিস্তান হাই কমিশন, লন্ডন-এর বাইরে বিক্ষোভ দেখান প্রবাসীরা। তাঁরা অভিযোগ করেন, যৌথ আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির (জেএএসি) শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমন করা হচ্ছে।
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকায় পিওকে-তে থাকা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করাও সম্ভব হচ্ছে না। তাঁদের অভিযোগ, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
গোয়েন্দা সূত্রের মতে, যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি বিশ্বের আরও বিভিন্ন দেশে একই ধরনের বিক্ষোভের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। যদিও এই আন্দোলনগুলি শান্তিপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি, তবে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পাকিস্তানের অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, পিওকে-র পরিস্থিতি পাকিস্তানের জন্য বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। একদিকে মানবাধিকার সংক্রান্ত অভিযোগ, অন্যদিকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
সূত্রের দাবি, পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যেও অসন্তোষ বাড়ছে। নিজেদের নাগরিকদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে অনেক সদস্যই ঊর্ধ্বতন কর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
এছাড়া স্থানীয় জনগণের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর দূরত্ব বাড়ায় গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহও ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ। এর ফলে একাধিক গোয়েন্দা ব্যর্থতার ঘটনা ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলির দাবি।
এক আধিকারিকের বক্তব্য, টিটিপি ও বিএলএ-র সাম্প্রতিক লক্ষ্যভেদী হামলাগুলি পাকিস্তানের গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের দুর্বলতার ইঙ্গিত বহন করছে।
_______



















