ইসলামাবাদ, ৭ জুন (আইএএনএস): পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের চেনাব নগর শহরে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের একটি উপাসনাস্থলের বাইরে এক অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীর গুলিতে তিনজন আহত হয়েছেন। রবিবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটে যখন তিনজন স্বেচ্ছাসেবক আল-আকসা উপাসনাস্থলের বাইরে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছিলেন। চেনাব নগর থানায় দায়ের হওয়া এফআইআর অনুযায়ী, মোটরসাইকেলে করে আসা এক যুবক উপাসনাস্থলের প্রধান ফটকের কাছে এসে আচমকা গুলি চালায়। এরপর সে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
আল-আকসা আহমদিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম বৃহত্তম ও কেন্দ্রীয় উপাসনাস্থল।
আহমদিয়া সম্প্রদায়ের মুখপাত্র আমির মাহমুদ এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি জানান, গত কয়েক মাসে চেনাব নগরে আহমদিয়াদের লক্ষ্য করে এটি দ্বিতীয় হামলার ঘটনা, যা সম্প্রদায়ের সদস্যদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
এদিকে, গত মে মাসে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ-কে চিঠি দিয়ে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে চলমান বৈষম্য, হয়রানি এবং সহিংসতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দাবি, ঈদ-উল-আযহার মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসবের আগে এবং চলাকালীন সময়ে এই ধরনের ঘটনা আরও বেড়ে যায়। সংগঠনটি আহমদিয়াদের ধর্মীয় স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, মতপ্রকাশের অধিকার এবং আইনের দৃষ্টিতে সমতার অধিকার নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ঈদ-উল-ফিতরের সময় পাঞ্জাবের বিভিন্ন জেলায় আহমদিয়া সম্প্রদায়ের ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে প্রশাসনিক ও পুলিশি বাধার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। গুজনওয়ালা, সিয়ালকোট, ফয়সালাবাদ এবং সারগোধা জেলায় উপাসনা বন্ধ করে দেওয়া, উপাসনাস্থল সিল করে দেওয়া এবং ধর্মীয় সমাবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনাও নথিভুক্ত করা হয়েছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মনে করে, এসব ঘটনা আহমদিয়া সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মৌলিক মানবাধিকারের ওপর অবৈধ হস্তক্ষেপের শামিল।
মানবাধিকার সংগঠনটি পাঞ্জাব সরকারকে অতীতের সহিংসতা, বৈষম্য ও হয়রানির ঘটনাগুলির নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রুখতে কার্যকর অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি জানিয়েছে।
_______
























