নয়াদিল্লি, ৭ জুন (আইএএনএস): ঝাড়খণ্ডের কৃষি রফতানির ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। প্রথমবারের মতো রাজ্য থেকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে তাজা আম বিদেশে রফতানি করা হয়েছে। কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য রপ্তানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-র সহায়তায় ঝাড়খণ্ডের আমের প্রথম চালান যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে বলে রবিবার জানিয়েছে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রক।
গত ৪ জুন কলকাতায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই রফতানি কর্মসূচির সূচনা করা হয়। ঝাড়খণ্ডের কৃষক উৎপাদক গোষ্ঠীগুলির জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলে মনে করা হচ্ছে।
রফতানিকৃত চালানে রয়েছে ১.৫ মেট্রিক টন তাজা আম্রপালি আম। এই আম সংগ্রহ করা হয়েছে ঝাড়খণ্ডের সিমডেগা জেলার বানো ব্লকের মহিলা পরিচালিত কৃষক উৎপাদক সংস্থা বেউরা ফার্মার প্রোডিউসার কোম্পানি লিমিটেড-এর কাছ থেকে।
আমের এই চালান লন্ডনে রফতানি করছে জেজিবি এগ্রোফ্রেশ প্রাইভেট লিমিটেড। এপেডার উদ্যোগে সংস্থাটি বেউরা ফার্মার প্রোডিউসার কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছে।
এর আগে, ৫ মে সিমডেগা জেলায় এপেডা একটি রফতানিমুখী সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচির আয়োজন করেছিল। সেখানে কৃষক উৎপাদক সংস্থা (এফপিও), কৃষক উৎপাদক কোম্পানি (এফপিসি) এবং প্রগতিশীল কৃষকদের আন্তর্জাতিক বাজার, রফতানি সংক্রান্ত নিয়ম, গুণমানের মানদণ্ড এবং বাণিজ্যিক সুযোগ সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণের পর এপেডা সরাসরি বেউরা ফার্মার প্রোডিউসার কোম্পানি এবং জেজিবি অ্যাগ্রোফ্রেশের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে, যার ফলে আন্তর্জাতিক মানের আম সংগ্রহ ও রফতানির পথ সুগম হয়।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই উদ্যোগের ফলে সংশ্লিষ্ট কৃষকেরা দেশীয় বাজারের তুলনায় ইতিমধ্যেই বেশি দাম পাচ্ছেন। পাশাপাশি, উন্নত ফসল-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা, গুণমান নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার ক্ষেত্রেও কৃষকদের উৎসাহিত করবে এই প্রকল্প।
অনুকূল কৃষি-আবহাওয়ার জন্য ঝাড়খণ্ডকে উদ্যানপালনের সম্ভাবনাময় অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে রাজ্যে উৎপাদিত আম্রপালি আম তার গুণমানের জন্য পরিচিত এবং দেশীয় বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা অর্জন করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রফতানি উদ্যোগ ভবিষ্যতে ঝাড়খণ্ডের কৃষকদের জন্য নতুন আন্তর্জাতিক বাজারের দরজা খুলে দিতে পারে এবং রাজ্যের কৃষি অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
_______
























