নয়াদিল্লি, ৭ জুন (আইএএনএস): সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবাদের জেরে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহকারী অধ্যাপিকাকে খুনের অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের এক দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের তিন দিনের মাথায় অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে রবিবার পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে।
নিহত অধ্যাপিকার নাম দেবস্মিতা পল। তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবাজি কলেজ-এর সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। গত ৪ জুন পূর্ব দিল্লির বসুন্ধরা এনক্লেভ এলাকার সত্যম অ্যাপার্টমেন্টের একটি ফ্ল্যাট থেকে তাঁর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। তদন্তকারীদের অনুমান, ৩ জুনই তাঁকে খুন করা হয়েছিল।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে যে সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের কারণেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। অভিযুক্ত দম্পতি পশ্চিমবঙ্গ থেকে দিল্লিতে এসে পরিকল্পিতভাবে অপরাধটি ঘটায়।
তদন্তে উঠে এসেছে, ৩ জুন বিকেল প্রায় ৩টা ২০ মিনিট নাগাদ এক পুরুষ ও এক মহিলা একটি ব্যক্তিগত ক্যাবে করে আবাসনে পৌঁছন। তাঁদের মুখ মাস্কে ঢাকা ছিল এবং সঙ্গে ব্যাগ ছিল। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তাঁরা লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি দিয়ে উপরে ওঠেন এবং অধ্যাপিকার ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন।
পুলিশ সূত্রে দাবি, ওই দু’জন প্রায় আধঘণ্টা ফ্ল্যাটের ভিতরে ছিলেন। পরে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তাঁদের পোশাকে পরিবর্তন দেখা যায়, যা তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে।
অপরাধস্থল পরীক্ষা করে জোরপূর্বক প্রবেশের কোনও চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ফলে পুলিশের ধারণা, অধ্যাপিকা অভিযুক্তদের চিনতেন এবং স্বেচ্ছায় তাঁদের ঘরে প্রবেশ করতে দিয়েছিলেন। এই কারণেই তদন্তকারীরা ‘ফ্রেন্ডলি এন্ট্রি’ বা পরিচিত ব্যক্তিকে বাড়িতে ঢুকতে দেওয়ার তত্ত্বকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, দেবস্মিতা পল তাঁর দিদি দেবরতি পল-এর ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন। ২০২২ সালে বৈবাহিক বিবাদের পর স্বামীর সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদ হয় এবং তাঁর স্বামী বর্তমানে বেঙ্গালুরুতে থাকেন।
ঘটনাটি সামনে আসে যখন দিদি দেবরতি পল বারবার ফোন করেও বোনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তিনি ফ্ল্যাটে পৌঁছে দেখেন বাইরে থেকে তালা দেওয়া। পরে ভিতরে ঢুকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেবস্মিতার দেহ দেখতে পান এবং সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেন।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ভারী কোনও বস্তু দিয়ে মাথায় আঘাত করার ফলে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও তাঁর কবজিতেও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ঘটনার পেছনের সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্র ও সম্পত্তি বিবাদের প্রকৃতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
























