নয়াদিল্লি, ৭ জুন (আইএএনএস): আসন্ন মহিলা টি-২০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে প্রত্যাশার চাপ নয়, বরং নিজের প্রস্তুতি ও প্রক্রিয়ার উপরেই আস্থা রাখার বার্তা দিলেন ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর।
২০২৫ সালে ঘরের মাঠে একদিনের বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ ট্রফি-খরা কাটিয়েছে ভারত। এবার ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে অনুষ্ঠিতব্য মহিলা টি-২০ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে নামছে দল। ১৪ জুন বার্মিংহামে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু করবে ভারত।
বিশ্বকাপকে ঘিরে বাড়তি প্রত্যাশা নিয়ে হরমনপ্রীত বলেন, “সাফল্যের সঙ্গে প্রত্যাশাও বাড়ে, কিন্তু আমি এটাকে ইতিবাচক দিক হিসেবেই দেখি। এর অর্থ মানুষ মহিলা ক্রিকেটকে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং আমাদের যাত্রার সঙ্গে আবেগগতভাবে যুক্ত হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি বাইরের চাপ নিয়ে খুব বেশি ভাবি না। আমার মনোযোগ থাকে প্রস্তুতি, দলের জন্য অবদান রাখা এবং বর্তমান মুহূর্তে থাকা। এই স্তরে প্রত্যাশা সবসময়ই থাকবে, কিন্তু তা যেন নিজের প্রক্রিয়া থেকে মনোযোগ সরিয়ে না দেয়, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।”
বিশ্বকাপের আগে বেঙ্গালুরুর বিসিসিআই সেন্টার অফ এক্সিলেন্স-এ অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি শিবিরের প্রশংসা করে ভারত অধিনায়ক বলেন, “এই শিবির অত্যন্ত পরিকল্পিত ও কার্যকর ছিল। শুধু দক্ষতা উন্নয়ন নয়, ফিটনেস, ম্যাচ পরিস্থিতির অনুশীলন, চাপ সামলানো এবং দলের মধ্যে ভূমিকার স্পষ্টতা নিয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।”
হরমনপ্রীতের মতে, টি-২০ ক্রিকেটে দ্রুত পরিস্থিতি বদলে যায়, তাই প্রত্যেক খেলোয়াড়ের ভূমিকা পরিষ্কার থাকা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে এই ধরনের শিবিরে তরুণ ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞদের কাছ থেকে শেখার সুযোগও তৈরি হয়।
ব্যাটিংয়ে সাম্প্রতিক আগ্রাসী মনোভাব প্রসঙ্গে তিনি জানান, আধুনিক টি-২০ ক্রিকেটের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদেরও বদলাতে হয়। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে তাঁর আক্রমণাত্মক ব্যাটিং বিশেষ নজর কেড়েছিল।
এই প্রসঙ্গে হরমনপ্রীত বলেন, “আগ্রাসী হওয়ার অর্থ নিজের স্বাভাবিক খেলাকে পুরোপুরি বদলে ফেলা নয়। বরং ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী আগে থেকেই ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে খেলতে শেখা। কোচ অমল মুজুমদার-সহ কোচিং স্টাফের সঙ্গে আলোচনা করে এমন কিছু ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে আমি বোলারদের উপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারি।”
তিনি জানান, শট নির্বাচন, মানসিকতা এবং দ্রুত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার উপর বিশেষভাবে কাজ করা হয়েছে। প্রস্তুতির উপর বিশ্বাস থাকলে আরও স্বাধীনভাবে এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলা সম্ভব বলেও মত তাঁর।
ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ফিল্ডিং নিয়েও সমান উৎসাহী হরমনপ্রীত। তাঁর মতে, একটি ভালো ক্যাচ, রান আউট কিংবা গুরুত্বপূর্ণ রান বাঁচানো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
২০২৫ সালের মহিলা একদিনের বিশ্বকাপ ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার নাদিন ডি ক্লার্ক-এর ক্যাচ নিয়ে ভারতের জয় নিশ্চিত করার স্মৃতিও উঠে আসে আলোচনায়।
ফিল্ডিং নিয়ে হরমনপ্রীত বলেন, “আমি ফিল্ডিং ভীষণ উপভোগ করি। এতে সবসময় খেলার মধ্যে থাকা যায়। একটি কঠিন ক্যাচ নেওয়া যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনই ডাইভ দিয়ে বাউন্ডারি বাঁচানো বা রান আউটে অবদান রাখাও সমান তৃপ্তিদায়ক।”
মহিলা ক্রিকেটের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা নিয়েও আশাবাদী ভারত অধিনায়ক। তাঁর মতে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং রিয়েলনাদিন ডি ক্লার্ক-টাইম আলোচনা ভক্তদের সঙ্গে খেলাটির সংযোগ আরও মজবুত করছে।
তিনি বলেন, “মহিলা ক্রিকেটের জন্য নিয়মিত দৃশ্যমানতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ যত বেশি ম্যাচ, খেলোয়াড় এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত নিয়ে আলোচনা করবে, ততই এই খেলাটির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক গভীর হবে।”
ভারত এবার কঠিন গ্রুপে রয়েছে। অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং নেদারল্যান্ডসের মতো দলগুলির বিরুদ্ধে খেলতে হবে। তবে হরমনপ্রীতের বিশ্বাস, প্রত্যাশার চেয়ে প্রস্তুতি ও সঠিক প্রক্রিয়ার উপর ভরসা রাখলেই সাফল্য আসবে।
ভারতের সামনে রয়েছে বহু প্রতীক্ষিত প্রথম টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ। সেই লক্ষ্যে দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হরমনপ্রীত কৌর।
_______



















