নয়াদিল্লি, ৫ জুন (আইএএনএস): দিল্লির মালব্য নগরের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্ত লাভকেশ বাজাজের অতীত অপরাধমূলক রেকর্ড সামনে এসেছে। দিল্লি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও একটি ভুয়ো পাসপোর্ট মামলায় তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন।
পুলিশ সূত্রের দাবি, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য জাল ভারতীয় নথি ও পাসপোর্ট তৈরির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের হয়েছিল। ওই মামলার তদন্তে লাভকেশ বাজাজের নাম উঠে আসে এবং পরে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ওই মামলায় গ্রেফতারের পর তিনি প্রায় ১৫ দিন তিহার জেল-এ বন্দি ছিলেন। পরে জামিনে মুক্তি পান। ভুয়ো পাসপোর্ট সংক্রান্ত মামলাটি এখনও আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
এদিকে মালব্য নগরের হোটেল অগ্নিকাণ্ডের তদন্তে পুলিশ হোটেলের হিসাবরক্ষক জয় মিশ্র এবং ম্যানেজার রাকেশের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। জয় মিশ্র দিল্লির ছাতারপুর এলাকার বাসিন্দা এবং ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক বলে জানা গেছে।
পুলিশ হোটেলের অন্যান্য কর্মচারীদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করছে। তদন্তকারীরা হোটেলের নথিপত্র, কর্মীদের বিবরণ এবং পরিচালন সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখছেন।
অন্যদিকে, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রাজধানীতে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা রোধ এবং বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন।
রাজ্য সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, মালব্য নগর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দোষী প্রমাণিত হলে ভবনের মালিক, সরকারি কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট কোনও ব্যক্তিকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা বিধি মেনে চলা, কার্যকর নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং জবাবদিহিমূলক কাঠামো তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।
উল্লেখ্য, হোটেলের মালিক লাভকেশ বাজাজকে গ্রেফতারের জন্য দিল্লি পুলিশ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। গ্রেফতারের পর তাকে আদালতে তোলা হলে চার দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে অভিযুক্তের আইনজীবীর দাবি, তারা এখনও মামলার এফআইআরের অনুলিপি পাননি। এর জবাবে পুলিশ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় নথি সরবরাহ করা হবে।
পুলিশ আদালতে জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত হোটেলের মাত্র দু’জন কর্মীর তথ্য পাওয়া গেছে। বাকি কর্মচারীদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এবং ঘটনার পূর্ণ চিত্র উদঘাটনে অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
দিল্লি পুলিশের মতে, অগ্নিকাণ্ড এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ফরেনসিক তদন্ত এখনও সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার কারণ ও দায় নির্ধারণে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।



















