মুম্বই, ৫ জুন (আইএএনএস) : বিদেশি মূলধন আকর্ষণ এবং আর্থিক বাজারকে আরও শক্তিশালী করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের ঘোষণা করল আরবিআই। শুক্রবার মুদ্রানীতি কমিটির (এমপিসি) বৈঠকের পর আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা জানান, অনাবাসী ভারতীয় (এনআরআই) এবং ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই)-দের জন্য শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ইকুইটি ইনস্ট্রুমেন্টে সেবির নিবন্ধন ছাড়াই বিনিয়োগের সীমা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
তিনি জানান, একই সুবিধা এবার সমস্ত বিদেশে বসবাসকারী ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারী বা পার্সনস রেসিডেন্ট আউটসাইড ইন্ডিয়া-দের জন্যও সম্প্রসারিত করা হচ্ছে। ফলে এনআরআই ও ওসিআইদের সমপর্যায়ে বিদেশি ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীরাও এই সুবিধা পাবেন।
আরবিআই গভর্নর আরও জানান, পাবলিক সেক্টর সংস্থাগুলিকে (পিএসইউ) বিদেশি মুদ্রায় ঋণ গ্রহণে উৎসাহিত করতে ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্বল্প খরচে ফরেক্স সোয়াপ সুবিধা দেওয়া হবে।
এছাড়া, নতুন ৩ থেকে ৫ বছর মেয়াদি এফসিএনআর (বি) আমানত সংগ্রহে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলিকে সম্পূর্ণ হেজিং খরচ বহনের জন্যও একই সময়সীমা পর্যন্ত বিশেষ সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
সরকারি সিকিউরিটিজে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে ‘ফুলি অ্যাক্সেসিবল রুট’ -এর আওতায় ১৫, ৩০ এবং ৪০ বছর মেয়াদি নতুন সব সরকারি বন্ডকে ‘স্পেসিফায়েড সিকিউরিটিজ’-এর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি।
একইসঙ্গে সাধারণ রুটে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগ, বিনিয়োগের ঘনত্ব এবং পৃথক সিকিউরিটিজ সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতাও তুলে নেওয়া হচ্ছে। আরবিআইয়ের মতে, কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষিত কর-সুবিধার সঙ্গে এই পদক্ষেপগুলি সরকারি ঋণপত্রে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়ক হবে।
রপ্তানি খাতকে উৎসাহ দিতে রপ্তানি আয় দেশে ফেরানোর সময়সীমা পুনরায় ৯ মাস করার প্রস্তাবও ঘোষণা করেছেন গভর্নর।
সঞ্জয় মালহোত্রা বলেন, “এই পদক্ষেপগুলি দেশের ব্যালান্স অব পেমেন্টসকে আরও শক্তিশালী করবে। একইসঙ্গে রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বিদেশি মূলধন প্রবাহকে উৎসাহিত করতে প্রয়োজনীয় নীতিগত পরিবর্তন ভবিষ্যতেও করা হবে।”
বিনিময় হার নীতি প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, ভারত কোনও নির্দিষ্ট বিনিময় হার বা সীমা লক্ষ্য করে না। বাজারের চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতেই টাকার মূল্য নির্ধারিত হয়। তবে অস্বাভাবিক অস্থিরতা বা জল্পনামূলক চাপের কারণে বাজারে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হলে আরবিআই প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ করবে বলেও তিনি জানান।
বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো, সরকারি ঋণপত্রের বাজারকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা এবং বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে আরবিআইয়ের এই ঘোষণাগুলিকে তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা।
























