কলকাতা, ৪ জুন (আইএএনএস): এক মহিলার দায়ের করা যৌন হেনস্থা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগের ভিত্তিতে কলকাতা পুরসভার (কেএমসি) ১১৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর বিশ্বজিৎ মন্ডল-কে বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশের রিজেন্ট পার্ক থানা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালে এবং চলতি বছরের মে মাসে এক মহিলাকে হেনস্থা ও শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই মামলার তদন্তের পরই কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করা হয়।
বিশ্বজিৎ মণ্ডলের গ্রেফতারের ফলে গত তিন দিনে কলকাতা পুরসভার মোট চারজন তৃণমূল কাউন্সিলর বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেফতার হলেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অভিযোগ দুর্নীতি ও তোলাবাজি সংক্রান্ত।
পুলিশের অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, অভিযোগকারী মহিলা জানিয়েছেন যে, প্রথমবার ২০২৪ সালের মার্চ মাসে এবং দ্বিতীয়বার চলতি বছরের ৯ মে তাঁকে যৌন হেনস্থা ও শ্লীলতাহানির শিকার হতে হয়। পাশাপাশি কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে অশালীন ভাষা ব্যবহার ও ভয় দেখানোর অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
মহিলার অভিযোগ, প্রথম ঘটনার পরও তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তবে সেই সময় অভিযুক্ত কাউন্সিলর শাসকদলের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি।
অভিযোগকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, গত মাসে একই ধরনের ঘটনা পুনরায় ঘটার পর তিনি ফের রিজেন্ট পার্ক থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এবার পুলিশ অভিযোগ নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করে এবং শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্বজিৎ মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ২ জুন দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগে কলকাতা পুরসভার ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শচীন সিং এবং ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অর্জিত দাস-কে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
এরপর ৩ জুন রাতে একই ধরনের অভিযোগে ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মহেশ কুমার শর্মা-কেও গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ।
এদিকে, দলের অন্দরে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় বুধবার কলকাতা পুরসভার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, দলনেত্রী মমতা ব্যানার্জী-র অনুমতি নিয়েই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বুধবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-র ডাকা প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে একাধিক তৃণমূল বিধায়ক নবান্নে গিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ফিরহাদ হাকিমও ছিলেন। বৈঠক থেকে ফেরার পরই তিনি মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেন।
তবে বিশ্বজিৎ মণ্ডলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁর আইনজীবী বা তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।



















