আগরতলা, ৪ জুন: রাজ্যের সেরিকালচার বা রেশমচাষ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী ও আধুনিক করে তুলতে উদ্যোগী হয়েছে সরকার। সেই লক্ষ্যেই বৃহস্পতিবার জিরানীয়া মহকুমার চম্পকনগরস্থিত কলাবাগান এলাকার স্টেট সেরিকালচার ট্রেনিং ইনস্টিটিউট পরিদর্শন করেন জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম খতিয়ে দেখেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অবস্থা, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন। মন্ত্রী জানান, প্রতিষ্ঠানটিকে সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আরও কার্যকর ও আধুনিক করে তোলার জন্য একাধিক উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা গ্রহণের চিন্তাভাবনা চলছে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ইনস্টিটিউটের বিদ্যমান কনফারেন্স হলকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট কনফারেন্স হলে রূপান্তরের বিষয়ে। এর ফলে প্রশিক্ষণ, কর্মশালা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক বৈঠক আরও উন্নত পরিবেশে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
শুধু তাই নয়, মূল ভবনের নান্দনিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত সংস্কার এবং আধুনিক সুবিধা সংযোজনের বিষয়েও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। সরকারের লক্ষ্য, এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে এমন এক আধুনিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা, যা ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী বলেন, “সেরিকালচার খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং প্রশিক্ষণের মানোন্নয়নে সরকার বদ্ধপরিকর। আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত অবকাঠামোর মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করে তোলার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।”
রাজ্যের রেশমচাষ শিল্পের বিকাশ এবং নতুন প্রজন্মকে এই খাতে দক্ষ করে তোলার লক্ষ্যে সরকারের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহল। তাঁদের মতে, পরিকল্পনাগুলি বাস্তবায়িত হলে কলাবাগানের স্টেট সেরিকালচার ট্রেনিং ইনস্টিটিউট উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।



















