কলকাতা, ৪ জুন (আইএএনএস): ২০২২ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গে স্থগিত হয়ে থাকা একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্প ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচি ফের চালু করা হচ্ছে বলে বৃহস্পতিবার ঘোষণা করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
মন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয় তহবিলের প্রবাহ পুনরায় শুরু হওয়ায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে। এর ফলে কর্মসংস্থান, আবাসন এবং গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন গতি আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, দুর্নীতির অভিযোগের জেরে ২০২২ সাল থেকে রাজ্যে একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
দিলীপ ঘোষ জানান, রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের আওতাধীন বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় প্রকল্প পুনরায় সক্রিয় করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্প (এমজিএনআরইজিএস), প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-গ্রামীণ, প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা, দীনদয়াল অন্ত্যোদয় যোজনা-জাতীয় গ্রামীণ জীবিকা মিশন, রাষ্ট্রীয় গ্রাম স্বরাজ অভিযান, জাতীয় সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি এবং কেন্দ্রীয় অর্থ কমিশনের অধীন বিভিন্ন প্রকল্প।
গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার অধীনে একটি বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী জানান, গত ২৭ মে কেন্দ্রীয় গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রকের এমপাওয়ার্ড কমিটির বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের জন্য নীতিগত অনুমোদন মিলেছে।
এই প্রকল্পের আওতায় রাজ্যজুড়ে প্রায় ২,৭৯০ কিলোমিটার নতুন গ্রামীণ রাস্তা এবং ৪৫টি সেতু নির্মাণ করা হবে। প্রায় ২,৫০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পে কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথভাবে অর্থায়ন করবে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্প নিয়ে। ২০২২ সালের মার্চ মাস থেকে কার্যত স্থগিত থাকা এমজিএনআরইজিএস প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
রাজ্যের প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় কাজ শুরু করার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে প্রায় ২ কোটি ৫৬ লক্ষ জব কার্ডধারী কর্মসংস্থানের আওতায় আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, প্রশাসনিক অনুমোদন, প্রশিক্ষণ এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, আগামী ১ জুলাই থেকে দেশজুড়ে ‘বিকশিত ভারত: গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ চালু হবে।
জুন মাসের শেষ পর্যন্ত বর্তমান ১০০ দিনের কাজ প্রকল্প চালু থাকবে। জুলাই থেকে নতুন প্রকল্প কার্যকর হবে। নতুন ব্যবস্থায় যোগ্য পরিবারগুলি বছরে ১২৫ দিনের মজুরিভিত্তিক কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে।
এছাড়া, কর্মসংস্থান না পেলে ৬০ দিনের বেকারভাতা দেওয়ার বিধানও থাকবে। এই প্রকল্পের ব্যয়ভার কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যথাক্রমে ৬০:৪০ অনুপাতে বহন করবে।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (গ্রামীণ)-এর আওতায় ‘আবাস প্লাস ২০২৪’ সমীক্ষার কাজও শুরু হয়েছে। প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করতে প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা চালানো হচ্ছে।
২০ জুলাইয়ের মধ্যে সমীক্ষার কাজ শেষ হবে। এরপর যাচাই-বাছাই, গ্রামসভার অনুমোদন এবং জেলা স্তরের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর উপভোক্তাদের তালিকা প্রকাশ করা হবে।
প্রশাসনের আশা, এই প্রকল্পগুলির পুনরুজ্জীবন রাজ্যের গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করবে এবং গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।



















