মুম্বই, ৪ জুন (আইএএনএস): আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছে শিবসেনা (ইউবিটি))। দলের মুখপাত্র সামান-র বৃহস্পতিবারের সম্পাদকীয়তে দাবি করা হয়েছে, কৌশলগত অস্পষ্টতা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জের কারণে বিশ্বমঞ্চে ভারতের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে।
সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, পাহালগাম-এ সন্ত্রাসী হামলার মতো ঘটনার পর আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারত ক্রমশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং বিশ্বের প্রধান শক্তিগুলির কাছ থেকে নিঃশর্ত ও দৃঢ় সমর্থন পেতে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে দেশের জাতীয় ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিয়ে গভীর সংকটের প্রতিফলন ঘটছে বলে দাবি করা হয়েছে।
শিবসেনা (ইউবিটি)-র বক্তব্য, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের অবস্থান এখন অত্যন্ত অনিশ্চিত। ১৪০ কোটির দেশ হওয়া সত্ত্বেও বিশ্বরাজনীতিতে ভারতের প্রভাব কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতি চাপের মুখে এবং ভারতীয় মুদ্রার মূল্যও দুর্বল হয়েছে বলে সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্পাদকীয়তে আরও দাবি করা হয়েছে যে, অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক (আরবিআই) নাকি জাতীয় ভাণ্ডার থেকে ৮৩ টন সোনা বিক্রি করেছে। যদিও এই দাবির পক্ষে কোনও প্রমাণ বা সরকারি তথ্য সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করা হয়নি।
এছাড়া, চীনের বিরুদ্ধে সরাসরি কড়া অবস্থান না নেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে। সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের সূত্র চীনের দিকে নির্দেশ করলেও কেন্দ্র সরকার বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কঠোর ভাষায় নিন্দা জানাতে রাজনৈতিক সদিচ্ছার পরিচয় দিচ্ছে না।
শিবসেনা (ইউবিটি)-র মতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নিজেদের মিত্রদের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ায়। যেমন চীন, রাশিয়া, ইয়েমেন ও তুরস্ক ইরানকে সমর্থন করছে, আবার চীন পাকিস্তানের পাশে রয়েছে। কিন্তু ভারতের পাশে তেমন কোনও শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক মিত্র নেই বলে সম্পাদকীয়তে দাবি করা হয়েছে।
পাশাপাশি বলা হয়েছে, একসময় ভারতের পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি ছিল পঞ্চশীল নীতি এবং জোটনিরপেক্ষ অবস্থান। বর্তমানে সেই ঐতিহ্য থেকে দেশ সরে এসেছে বলেও সম্পাদকীয়তে মন্তব্য করা হয়েছে।
সম্পাদকীয়তে পাকিস্তান এবং চীনের প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরে পাকিস্তানকে দেউলিয়া রাষ্ট্র বলে প্রচার করা হলেও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলি নিজেদের কৌশলগত স্বার্থে ইসলামাবাদকে সমর্থন দিয়ে চলেছে। একই সঙ্গে চীন ও পাকিস্তানের সম্পর্কও ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
গালওয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষ এবং পাহেলগাম হামলার মতো ঘটনার পরও চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন না করায় কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করা হয়েছে। সম্পাদকীয়তে দাবি করা হয়েছে, যদি চীন পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহিত করে থাকে, তাহলে চীনের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল।
প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, নেপাল-এর সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে নিম্নস্তরে পৌঁছেছে। নেপালের বর্তমান অবস্থানকে চীনের প্রতি অধিক ঘনিষ্ঠ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু-র সময়ের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা টেনে বলা হয়েছে, সেই সময়ে প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ ও সম্পর্ক অনেক বেশি দৃঢ় ছিল। সম্পাদকীয়তে আরও দাবি করা হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পশ্চিমা দেশগুলিতে ঘনঘন সফর করলেও নিকটবর্তী প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে যথেষ্ট সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে না।
উল্লেখ্য, সম্পাদকীয়তে প্রকাশিত মতামত সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের নিজস্ব অবস্থান। এই দাবিগুলির বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।



















