মুম্বই, ৪ জুন (আইএএনএস): আগামী ছয় মাসের মধ্যে আরও দুই থেকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) কার্যকর হবে বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল।
মুম্বইয়ে আয়োজিত ‘সিটি ইন্ডিয়া কনফারেন্স ২০২৬’-এ ভার্চুয়াল ভাষণে গোয়েল বলেন, ভারত দ্রুত তার বৈশ্বিক বাণিজ্য নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করছে। ওমান-এর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ১ জুন থেকে কার্যকর হয়েছে এবং আগামী ছয় মাসের মধ্যে আরও ২-৩টি গুরুত্বপূর্ণ এফটিএ চালু হবে।
মন্ত্রী বলেন, “আগামী এক বছরে আরও তিন থেকে চারটি বড় এফটিএ সম্পাদিত হবে। আগামী ৯ থেকে ১০ মাসের মধ্যে বর্তমানে আলোচনাধীন মোট নয়টি এফটিএ কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বের জন্য ভারতের দরজা উন্মুক্ত।”
পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক সংকট এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে ঝুঁকি সত্ত্বেও সরকার জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সক্ষম হয়েছে বলেও দাবি করেন গোয়েল।
তিনি জানান, ভারত ইতিমধ্যেই জ্বালানির উৎস বৈচিত্র্যময় করার পদক্ষেপ নিয়েছিল, যার ফলে সংকটকালেও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেনি।
গোয়েলের কথায়, “পেট্রোল, ডিজেল, বিমান জ্বালানি (এটিএফ), শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত এলএনজি এবং গৃহস্থালির এলপিজির সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির চাপ থাকা সত্ত্বেও দেশে জ্বালানির দাম তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত রাখা সম্ভব হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম বৃদ্ধি পেলেও কৃষকদের জন্য ভর্তুকিযুক্ত সারের মূল্য অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে এবং অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা সরকার নিজেই বহন করেছে।
ভারতকে বর্তমানে উৎপাদন ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
গোয়েল বলেন, “আগামী দুই দশক ধরে ভারত বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে থাকবে। দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা ভারতের সম্ভাবনার দিকে নজর দিচ্ছেন।”
তিনি আরও বলেন, “ভারতের প্রবৃদ্ধির গল্প যত দ্রুত কেউ উপলব্ধি করতে পারবেন, তত বেশি লাভের সুযোগ পাবেন। যারা ধৈর্য ধরে ভারতে বিনিয়োগ করেছেন, তারা ইতিমধ্যেই তার সুফল পেয়েছেন।”
প্রযুক্তি খাতের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, ভারত এখন শুধু সংযোজনভিত্তিক উৎপাদন বা আমদানি-নির্ভর প্রযুক্তির উপর নির্ভর করছে না, বরং উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে।
তিনি জানান, দেশ বর্তমানে নকশা প্রণয়ন, গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি), অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রয়োগের উপর জোর দিচ্ছে। পাশাপাশি ডেটা সেন্টার এবং নতুন প্রযুক্তি-নির্ভর শিল্পের বিকাশে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহারও উৎসাহিত করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও বিনিয়োগ আকর্ষণের বৃহত্তর উদ্যোগের প্রেক্ষাপটেই পীযূষ গোয়েলের এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।


















