নয়াদিল্লি, ২৯ জুলাই (আইএএনএস): ছাত্র আন্দোলন করতে চাইলে পুলিশের পদক্ষেপের মুখোমুখি হওয়া স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করলেন রাজ্যসভার সদননেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা। বুধবার রাজ্যসভায় দিল্লি পুলিশের সিপিআই(এম)-এর কেন্দ্রীয় দফতরে প্রবেশের ঘটনাকে ঘিরে তুমুল হট্টগোলের মধ্যেই তিনি এই মন্তব্য করেন।
মঙ্গলবার দিল্লিতে সিপিআই(এম)-এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢুকে প্রাক্তন জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সভাপতি আইশে ঘোষকে গ্রেফতারের চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ ওঠে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার রাজ্যসভায় বিরোধীদের তীব্র প্রতিবাদ ও স্লোগান ওঠে।
সিপিআই(এম)-এর সাংসদ জন ব্রিটাস বিষয়টি উত্থাপন করে বলেন, দিল্লি পুলিশ একটি জাতীয় রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে ঢুকে একজন ছাত্রনেত্রীকে গ্রেফতারের চেষ্টা করেছে। তাঁর দাবি, আইশে ঘোষের বিরুদ্ধে অভিযোগ শুধু যন্তর মন্তরের ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া। পুলিশ ২০২০-২১ সালের পুরনো মামলার কথা বললেও, কোনও পূর্বসূচনা ছাড়াই দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ঘটনার ব্যাখ্যাও দাবি করেন।
বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গেও বিষয়টি সমর্থন করে বলেন, একটি জাতীয় রাজনৈতিক দলের দফতরে ঢুকে কোনও নেতাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করা অত্যন্ত লজ্জাজনক। সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
এর জবাবে জে.পি. নাড্ডা বলেন, “আমিও ছাত্রনেতা ছিলাম। জরুরি অবস্থার সময় আমাকেও গ্রেফতার হতে হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পুলিশ যা করার, সেটাই করছে। যে কোনও ছাত্র আন্দোলন করতে চাইলে তাকে পুলিশের মুখোমুখি হতেই হবে। আমিও জরুরি অবস্থার সময় বহুবার পুলিশের মুখোমুখি হয়েছি।”
নাড্ডার এই মন্তব্যের পর ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজ্যসভা। বিরোধী সদস্যদের বিক্ষোভ ও স্লোগানের মধ্যে কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে সভার অধিবেশন দুপুর পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন উপ-রাষ্ট্রপতি তথা রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি.পি. রাধাকৃষ্ণন।
এর আগে অধিবেশনের শুরুতে বিভিন্ন মন্ত্রকের নথি পেশ করা হয়। পাশাপাশি লোকসভার সুপারিশ অনুযায়ী ‘অফিসেস অফ প্রফিট’ সংক্রান্ত যৌথ সংসদীয় কমিটিতে রাজ্যসভা থেকে দুই সদস্য নির্বাচনের প্রস্তাবও গৃহীত হয়।



















