পাটনা, ৩ জুন (আইএএনএস): জনপ্রিয় শিক্ষক খান স্যারের পরিচালিত কোচিং সেন্টারে হামলার ঘটনার পর বুধবারও পাটনায় তাঁর প্রতিষ্ঠানের বাইরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় রয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষামহলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার রাতে খান স্যারের কোচিং সেন্টারে ভাঙচুর ও হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে, কয়েকজন দুষ্কৃতী জোর করে প্রতিষ্ঠানের ভিতরে ঢুকে এক নিরাপত্তারক্ষীকে মারধর করে।
বুধবার সকালে নির্ধারিত ক্লাসে যোগ দিতে বহু ছাত্রছাত্রী কোচিং সেন্টারে পৌঁছান। তবে পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে এদিনের সমস্ত ক্লাস বাতিলের ঘোষণা করেন খান স্যার।
ক্লাস বাতিলের পর প্রতিষ্ঠানের বাইরে জড়ো হওয়া ছাত্রছাত্রীরা তাঁদের প্রিয় শিক্ষকের সমর্থনে স্লোগান দিতে শুরু করেন। পরে অনেকেই রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখান এবং খান স্যারের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তার দাবি তোলেন।
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, প্রশাসন যতক্ষণ পর্যন্ত তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত না করছে, ততক্ষণ তাঁদের আন্দোলন চলবে।
ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে খান স্যার শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানান। তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠান শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার জন্য, কোনও সংঘাত বা অশান্তির জন্য নয়। তাই রাস্তা অবরোধ না করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
খান স্যার জানান, হামলায় কোচিং সেন্টারের এক নিরাপত্তারক্ষী গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। তাঁর মাথায় গভীর আঘাত লেগেছে এবং বর্তমানে তাঁকে চিকিৎসার জন্য পাটনা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হামলার সময় কয়েকজন নিরাপত্তারক্ষীর ডিউটি শেষ হয়ে গিয়েছিল। আহত নিরাপত্তারক্ষীর দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসাই এখন তাঁর প্রধান উদ্বেগের বিষয়।
এদিকে, ঘটনার পর গুলিচালনার অভিযোগও সামনে আসে। হামলার অব্যবহিত পরে খান স্যার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে একাধিক রাউন্ড গুলি চলতে পারে।
তবে পরে তিনি স্পষ্ট করেন যে ঘটনাস্থলের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে তিনি সঠিকভাবে বিষয়টি বুঝতে পারেননি। উল্লেখযোগ্যভাবে, দায়ের করা এফআইআর-এ গুলিচালনার কোনও অভিযোগ নেই।
পাটনা পুলিশও জানিয়েছে, তদন্তে গুলিচালনার কোনও প্রমাণ মেলেনি এবং ঘটনাস্থলে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে বলে কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।
যদিও তিনি কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের নাম উল্লেখ করেননি, খান স্যারের দাবি, আর্থিকভাবে দুর্বল ছাত্রছাত্রীদের স্বল্প খরচে শিক্ষা দেওয়ার উদ্যোগে কিছু মহল অসন্তুষ্ট হতে পারে।
তবে একই সঙ্গে তিনি প্রশাসন ও বিহার পুলিশের ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর কথায়, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা এলাকায় উপস্থিত থেকে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পদক্ষেপ করছেন।



















