নয়াদিল্লি, ৩ জুন (আইএএনএস): ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ) ফের বিপুল জয় পাবে বলে আধ্যাত্মিক নেতা জগদগুরু রামভদ্রাচার্যের মন্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন জোটের একাধিক নেতা। তাঁরা দাবি করেছেন, রাজ্যে আবারও নিরঙ্কুশ জনসমর্থন পেয়ে ক্ষমতায় ফিরবে এনডিএ।
সম্প্রতি আইএএনএস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রামভদ্রাচার্য বলেন, “উত্তরপ্রদেশে আবারও পদ্ম ফুটবে। আমি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এই কথা বলছি।”
তাঁর এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় উত্তরপ্রদেশ সরকারের মন্ত্রী ওম প্রকাশ রাজভর বলেন, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে সাম্প্রতিক নির্বাচনে এনডিএর সাফল্যই প্রমাণ করছে যে মানুষের আস্থা ক্রমশ জোটের দিকে বাড়ছে।
আইএএনএস-কে তিনি বলেন, “শুধু বিহারের কথাই যদি ধরা হয়, সেখানে এনডিএ ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও, যেখানে ইন্ডিয়া জোট অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ছিল, সেখানেও ঐতিহাসিক ফল হয়েছে। উত্তরপ্রদেশেও ঐতিহাসিক জয় হবে। কারণ কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টি (এসপি)-র ব্যর্থতা মানুষ দেখেছে, যেমনটা ২০১৭ সালেও দেখা গিয়েছিল।”
রাজভরের দাবি, উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেসের নিজস্ব ভোটভিত্তি কার্যত নেই এবং দলটি এখনও সমাজবাদী পার্টির সমর্থনের উপর নির্ভরশীল।
তিনি বলেন, “কংগ্রেসের নিজস্ব ভোট নেই। সমাজবাদী পার্টির সমর্থন ছাড়া তারা লড়াই করতে পারে না। তাই তাদের পূর্বাভাসের থেকেও ভালো ফল করবে সরকার।”
অন্যদিকে, বিহারের মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা দিলীপ কুমার জয়সওয়ালও রামভদ্রাচার্যের বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন। তিনি আধ্যাত্মিক নেতাকে অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি বলে উল্লেখ করেন।
আইএএনএস-কে জয়সওয়াল বলেন, “সন্ত রামভদ্রাচার্যজি সর্বজ্ঞ। তিনি দৃষ্টিহীন হলেও গভীর আধ্যাত্মিক জ্ঞান ও অন্তর্দৃষ্টির অধিকারী। এই দেশে যদি তুষ্টিকরণ ও ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির মাধ্যমে সনাতন ধর্মকে অপমান করা হয়, যেমন রাহুল গান্ধী ও ইন্ডিয়া জোটের রাজনীতিতে দেখা যায়, তা উদ্বেগের বিষয়।”
তিনি আরও বলেন, “রামভদ্রাচার্যজি ঠিকই বলেছেন যে জাতিভেদ থাকা উচিত নয়। তবে ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির কারণে সনাতন মূল্যবোধের অবমাননা মেনে নেওয়া হবে না।”
জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর প্রধান মুখপাত্র নীরজ কুমার অবশ্য বলেন, গণতন্ত্রে শেষ কথা বলে জনগণই। তবে তিনিও এনডিএর জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন।
আইএএনএস-কে তিনি বলেন, “কে কী মন্তব্য করলেন, তা তাঁর নিজস্ব বিষয়। কিন্তু এই দেশে গণতন্ত্র রয়েছে এবং প্রত্যেক রাজনৈতিক দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। আমাদের জোটের দলগুলি নিজেদের কাজ ও জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে ভোট চাইবে।”
বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের রাজনৈতিক দর্শনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “সমাজবাদী পার্টির নীতীশ কুমারের কাছ থেকে শেখা উচিত প্রকৃত সমাজতন্ত্র কী। দেশ এখন জাতিভিত্তিক রাজনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে এগিয়ে গিয়েছে, কিন্তু কিছু দল এখনও সেই পুরনো রাজনীতিতেই আটকে রয়েছে। উন্নয়নের সঙ্গে সামাজিক ন্যায়বিচার কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, তা আমরা জানি। তাই উত্তরপ্রদেশেও আগের নির্বাচনের মতোই ফল হবে।”



















