কলকাতা, ৩ জুন (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভার দফতর বণ্টনের ঘোষণা বুধবার করা হতে পারে। এদিন রাজ্য সচিবালয় নবান্নে সম্প্রসারিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে মন্ত্রীদের মধ্যে বিভিন্ন দফতরের দায়িত্ব বণ্টন করা হবে বলে সূত্রের খবর।
বৈঠকে প্রশাসনিক স্তরে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
গত ১ জুন কলকাতার লোক ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিজেপির ৩৫ জন বিধায়ক মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তাঁদের মধ্যে ১৩ জন পূর্ণমন্ত্রী, তিন জন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী এবং ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন।
এই ৩৫ জনের শপথগ্রহণের ফলে পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভার মোট সদস্যসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১। এর আগে গত ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ ছয় জন মন্ত্রী শপথ নিয়েছিলেন।
নতুন ১৩ জন পূর্ণমন্ত্রীকে অন্তর্ভুক্ত করার ফলে মুখ্যমন্ত্রী-সহ মন্ত্রিসভার পূর্ণমন্ত্রীদের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৯।
সংবিধান অনুযায়ী, কোনও রাজ্যের মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা সংশ্লিষ্ট বিধানসভার মোট আসনের ১৫ শতাংশের বেশি হতে পারে না। সেই হিসেবে ২৯৪ সদস্যের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সর্বাধিক ৪৪ জন মন্ত্রী থাকতে পারেন। বর্তমানে আরও তিন জন মন্ত্রীকে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।
এদিকে, বুধবারের দফতর বণ্টনকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে অর্থ এবং শিল্প ও বাণিজ্য দফতর কার হাতে যাবে তা নিয়ে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শপথ নেওয়ার পরই জানিয়েছিলেন, আর্থিক সংকটে জর্জরিত রাজকোষকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং রাজ্যে বড় শিল্প বিনিয়োগ আকর্ষণ করাই তাঁর সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হবে।
বিজেপির রাজ্য ইউনিটের একাংশের মতে, আপাতত মুখ্যমন্ত্রী নিজেই অর্থ দফতরের দায়িত্ব নিজের কাছে রাখতে পারেন। পরে দিল্লিভিত্তিক এক বিশিষ্ট বাঙালি অর্থনীতিবিদকে মন্ত্রিসভায় এনে অর্থমন্ত্রী করার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁকে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে উপনির্বাচনে জয়ী করে আনার সম্ভাবনার কথাও দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম এবং দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর—উভয় কেন্দ্র থেকেই জয়ী হন। ভবানীপুর কেন্দ্রে তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত করেন। পরে তিনি ভবানীপুর কেন্দ্রের বিধায়ক পদ বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেন। ফলে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে উপনির্বাচন অনিবার্য হয়ে পড়েছে।



















