ওয়াশিংটন, ৩ জুন (আইএএনএস): গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ (ক্রিটিক্যাল মিনারেলস) এখন মার্কিন কূটনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হয়ে উঠেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলি সরবরাহ শৃঙ্খল সুরক্ষিত করা এবং চীনের উপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
মার্কিন কংগ্রেসের হাউস অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস সাবকমিটির জাতীয় নিরাপত্তা, পররাষ্ট্র দফতর ও সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি বিষয়ক শুনানিতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে রুবিও বলেন, চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা এখন শুধু বাণিজ্য ও প্রযুক্তিতে সীমাবদ্ধ নেই; তা কৌশলগত সম্পদ ও প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষেত্রেও বিস্তৃত হয়েছে। সেই কারণেই ট্রাম্প প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ খনিজকে তাদের কূটনৈতিক অগ্রাধিকারের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
রুবিও বলেন, “বিশ্বের প্রতিটি মার্কিন দূতাবাসে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এখন আমাদের কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।”
তিনি জানান, উন্নত উৎপাদন শিল্প, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সেমিকন্ডাক্টর এবং পরিচ্ছন্ন শক্তি প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে এই খনিজ সম্পদের উপর।
রুবিওর মতে, চীনের খনি, পরিশোধন ও প্রক্রিয়াকরণ খাতে আধিপত্যের ফলে যে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, তা কমাতে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের অংশীদার দেশগুলির সঙ্গে বিকল্প সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
তিনি সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক উদ্যোগগুলির কথাও উল্লেখ করেন। রুবিও বলেন, “ক্রিটিক্যাল মিনারেলস মিনিস্টেরিয়াল বৈঠকে তিন ডজনেরও বেশি দেশ অংশগ্রহণ করেছিল।” এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে খনিজ নিরাপত্তা ও সহযোগিতা আরও জোরদার করার চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।
রুবিওর মতে, শুধু খনিজের উৎস নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়; সেগুলিকে ব্যবহারযোগ্য পণ্যে রূপান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াকরণ ও পরিশোধন ক্ষমতা গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, “এই উপাদানগুলিকে ব্যবহারযোগ্য পণ্যে রূপান্তর করার সক্ষমতা এখন অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।”
বিদেশমন্ত্রী আরও জানান, মার্কিন কূটনীতিকরা বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে কাজ করে সরবরাহ শৃঙ্খলের দুর্বলতা চিহ্নিত করছেন এবং বিকল্প বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করছেন।
রুবিওর অভিযোগ, বহু উন্নয়নশীল দেশ অবকাঠামো ও শিল্প উন্নয়নের জন্য প্রায়শই চীনা অর্থায়িত প্রকল্প ছাড়া অন্য কোনও বাস্তব বিকল্প পায় না।
তিনি বলেন, “অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, সেখানে শুধু চীনা সংস্থাগুলিই উপস্থিত থাকে।”
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় খনি, প্রক্রিয়াকরণ, পরিবহণ এবং লজিস্টিক অবকাঠামো খাতে মার্কিন ও মিত্র দেশগুলির বিকল্প প্রকল্পকে উৎসাহিত করছে যুক্তরাষ্ট্র। একইসঙ্গে বিভিন্ন আর্থিক সহায়তা ব্যবস্থা ও অংশীদারিত্বের মাধ্যমে খনিজসমৃদ্ধ অঞ্চলে কৌশলগত প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রুবিও সতর্ক করে বলেন, সরবরাহ শৃঙ্খল নিরাপত্তার প্রশ্ন এখন শুধু খনিজ খাতেই সীমাবদ্ধ নয়। অন্যান্য অনেক শিল্পক্ষেত্রেও উৎপাদন অতিরিক্তভাবে কয়েকটি দেশের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়েছে, যা ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বর্তমানে বৈদ্যুতিক গাড়ি, ব্যাটারি উৎপাদন, নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সুরক্ষিত করাকে বিশ্বজুড়ে সরকারগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করছে।



















