ধর্মনগর, ২ জুন : ধর্মনগরে পিডব্লিউডি অ্যাসোসিয়েশনের চাবি দখলকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি ও ক্ষমতা প্রদর্শনের অভিযোগে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর থেকেই বিধায়ক জহর চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত একাংশের কর্মী-সমর্থক বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কাজ ও প্রভাব নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার লক্ষ্যে সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ২০১৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত স্বাস্থ্য, পিডব্লিউডি, ডিডব্লিউএস-সহ বিভিন্ন দপ্তরের কাজের সঙ্গে যুক্ত একাংশের প্রভাবশালী গোষ্ঠী এখন নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের সুযোগ নিয়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করার চেষ্টা করছে। অভিযোগ উঠেছে, পূর্বে অন্য শিবিরে থাকা কয়েকজনও নির্বাচনের আগে পক্ষ পরিবর্তন করে বর্তমানে জহর চক্রবর্তীর অনুগত হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, পিডব্লিউডি অ্যাসোসিয়েশনের চাবি বর্তমানে বিশ্ববন্ধু সেনপন্থী একাংশের কাছে রয়েছে। সেই চাবি নিজেদের দখলে নিতে ১ ও ২ জুন বিপুল সংখ্যক জহরপন্থী পিডব্লিউডি ও ডিডব্লিউএস দপ্তরের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি চালায়। তাদের বক্তব্য, এতদিন যারা বিভিন্ন দপ্তরের কাজ থেকে সুবিধা ভোগ করেছে, তাদের আর কাজ করতে দেওয়া হবে না।
স্থানীয় মহলে অভিযোগ, বিক্ষোভে এমন কিছু ব্যক্তিকেও দেখা গেছে যাদের বিরুদ্ধে অতীতে এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি ও দাদাগিরির অভিযোগ উঠেছিল। সোমবার সকাল থেকে দুপুর প্রায় দেড়টা পর্যন্ত পিডব্লিউডি দপ্তরের সামনে অবস্থান চলতে থাকে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ধর্মনগর থানার পুলিশ। পুলিশ পৌঁছানোর পর বিক্ষোভকারীরা এলাকা ছেড়ে চলে যায়।
এদিকে, এই ঘটনায় ধর্মনগর পুর পরিষদের কাউন্সিলর মনোজ আচার্যের উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধীদের অভিযোগ, সরকারি দপ্তরের সামনে এ ধরনের শক্তি প্রদর্শন ও চাবি দখলের প্রচেষ্টা গণতান্ত্রিক পরিবেশকে কলুষিত করছে এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন তৈরি করছে।
তবে এই অভিযোগের বিষয়ে জহরপন্থী শিবিরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।



















