নয়াদিল্লি, ২ জুন (আইএএনএস): তৃণমূল কংগ্রেস নেতাকর্মীদের উপর হামলা এবং রেল জমি থেকে হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর ধর্না কর্মসূচিকে সমর্থন জানাল কংগ্রেস। দলের দাবি, গণতন্ত্রে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করা প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। তবে বিজেপির বক্তব্য, এই ধর্না পশ্চিমবঙ্গের মানুষের উপর কোনও প্রভাব ফেলবে না, কারণ রাজ্যের মানুষ ইতিমধ্যেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ।
আইএএনএস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কংগ্রেস সাংসদ প্রমোদ তিওয়ারি বলেন, “গণতন্ত্রে কোথাও অন্যায় হলে তার বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার অধিকার ভারতের সংবিধান দিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই অধিকারই প্রয়োগ করছেন।”
তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর উপর নৃশংস হামলা হয়েছে। “তিনি দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা এবং সাংসদ। বিজেপি শাসিত পরিস্থিতিতে যদি তিনিই নিরাপদ না হন, তাহলে এটিকে পরিকল্পিত রাজনৈতিক আক্রমণ বলেই মনে হয়,” দাবি তিওয়ারির।
তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়-এর উপর হামলার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, একাধিক তৃণমূল পার্টি অফিস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।
তিওয়ারির দাবি, “স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এ ধরনের ঘটনা আগে দেখা যায়নি। এটি বিজেপির কর্তৃত্ববাদী মনোভাবের প্রকাশ।” পাশাপাশি তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলিকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান জানান।
অন্যদিকে বিজেপি সাংসদ প্রবীণ খণ্ডেলওয়াল কটাক্ষ করে বলেন, “বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তিনি হতাশ ও ক্ষুব্ধ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়— সকলেই এখন রাজনৈতিক নাটক করছেন।”
তাঁর দাবি, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ধর্নার কোনও প্রভাব পড়বে না। তাঁর উচিত নিজের দলকে সামলানো। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ রাজ্যে তৃণমূলের শাসন নিয়ে জবাব চাইছেন।”
একই সুরে বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন, “মাত্র এক মাসের মধ্যেই পরিস্থিতি আমূল বদলে গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কখনও ভাবেননি যে মানুষের জন্য তিনি যে সমস্যাগুলি তৈরি করেছেন, তা এত দ্রুত জনরোষে পরিণত হয়ে দলের দিকে ফিরে আসবে।”
তিনি আরও দাবি করেন, “বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত শেষ হয়ে গিয়েছে। তাদের হাতে এখন আর তেমন সংগঠন বা কর্মীও নেই।”
তবে তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিজেপির এই দাবির কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।



















